যশোরে সংবাদপত্রের কালো দিবসের সভা, ১৪ বছর ভিন্ন পন্থায় শাসকশ্রেণি কৌশলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করে চলেছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে সংবাদপত্রের কালো দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, ১৯৭৫ সালে সবকটি সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে হরণ করেছিল। বিগত ১৪ বছর যাবত ভিন্ন পন্থায় একই কাজে লিপ্ত রয়েছে বর্তমান শাসকশ্রেণি।
১৬ জুন বৃহস্পতিবার সকালে প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে দিবসটি পালন করে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর। সংগঠনের সহ-সভাপতি কাজী রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গবেষক বেনজীন খান, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ জামান, সাবেক দপ্তর সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারেক ও সিনিয়র সাংবাদিক বিএম আসাদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, আগে সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে সংবাদপত্রের কালো দিবস পালন করতো। কিন্তু বর্তমানে সেই ঐক্য নেই। যার ফলে সরকার একের পর এক আইন করে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে চাইছে। সংবাদমাধ্যমের কাজই হলো সাধারণ মানুষের বৈষম্যের কথা তুলে ধরা। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মত নানাবিধ আইনের কারণে সাংবাদিকরা ভয়ে শোষন-বৈষম্যের চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরতে পারছে না। এই অবস্থায় সঠিক নেতৃত্বের প্রয়োজন যে নেতৃত্ব ভয়ের শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন বক্তারা।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে যেভাবে হাজার হাজার সাংবাদিককে বেকার করে রাস্তায় নামানো হয়েছিল, বর্তমানেও গণমাধ্যমকে সেদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নামে রাষ্ট্রের টাকা দেওয়া হচ্ছে কেবলমাত্র সরকারপন্থিদের। অথচ বিরোধী মতের অসংখ্য সাংবাদিক আজ বেকার, অসুস্থতায় ভুগছেন। এসব অসুস্থ সাংবাদিককে কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তারা দেখতে পান না। বক্তারা অবিলম্বে সকল কালাকানুন বাতিল করে মুক্ত সাংবাদিকতা করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের যুগ্ম সম্পাদক এসএম ফরহাদ. দপ্তর সম্পাদক মীর কামরুজ্জামান মনি, কোষাধ্যক্ষ এম. এ আর মশিউর, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী রফিকুল ইসলামসহ যশোর জেলা এবং ঢাকার বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

Lab Scan
ভাগ