শংকরপুরে আফজাল হত্যায় সন্ত্রাসী ট্যারা সুজনসহ ৩ জনের নামে মামলা, আটক ১

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের নাজির শংকরপুর চাতালের মোড় এলাকায় হত্যাসহ প্রায় এক ডজন মামলার আসামি আফজাল হোসেন হত্যার ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের পিতা ছলেমান শেখ ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন। বুধবার সকালে পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত ইব্রাহিম (৪২) নামে এক আসামিকে নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া থেকে আটক করেছে। ইব্রাহিম একই এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে।
অপরদিকে পৌর কাউন্সিলর অ্যাড. আসাদুজ্জামান বাবুলের ওপর হামলার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তকে এখনো পর্যন্ত আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় কোতয়ালি থানায় কোনো মামলাও হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ মো. মনিরুজ্জামান।
পুলিশ জানায়, নিহত আফজাল হোসেনের পিতা ছলেমান শেখ তার ছেলেকে হত্যার ঘটনায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। আসামিরা হচ্ছে-নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়ার জিন্নাত আলীর ছেলে সুজন ওরফে ট্যারা সুজন, মোশারফ হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম ও বকচর চৌধুরী বাড়ি এলাকার মৃত মোস্তর ছেলে জাহিদ হোসেন।
মামলায় ছলেমান শেখ উল্লেখ করেছেন, ট্যারা সুজন একজন মাদক ব্যবসায়ী। সে নাজির শংকরপুর মাঠপাড়ায় মাদকদ্রব্য বিক্রি করতো। এই বিষয়কে কেন্দ্র ৭ মাস আগে আফজালের সাথে তার কথা কাটাকাটি এমনকী হাতিহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ট্যারা সুজন ক্ষিপ্ত হয়। সে আফজালকে ক্ষতি করার হুমকিও দেয়। গত ২৯ মে রাত সাড়ে সাতটার দিকে আফজাল ও প্রতিবেশী সুমন দুধ কিনে বাড়ি ফিরছিলো। পথে নাজির শংকরপুর চাতালের মোড়ের সিটি মডেল একাডেমির সামনে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কুড়াল, দা, চাকু নিয়ে ট্যারা সুজনসহ উল্লিখিত আসামিরা আফজালের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করে। পরে আফজালকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর বুধবার সকালে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি ইব্রাহিমকে আটক করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই শরীফ আল মামুন। আটক অস্ত্র আইনের মামলাসহ আরও ৩টি মামলা রয়েছে। সূত্র জানায়, দুপুরে আটক ইব্রাহিমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পৌর কাউন্সিলর অ্যাড. আসাদুজ্জামান বাবুলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ৩ দিন পার হয়ে গেলেও জড়িত সন্ত্রাসী সাকিবকে এখনো আটক করতে পারেনি।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ মো. মনিরুজ্জামান জানান, পৌর কাউন্সিলর অ্যাড. আসাদুওজ্জামান বাবুলের ওপর হামলার ঘটনায় এখনো থানায় কোনো এজাহার দাখিল হয়নি।

Lab Scan
ভাগ