যশোরে যুবক খুন, বোমা ও গুলিবর্ষণ

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গতকাল রোববার সন্ধ্যারাতে যশোর শহরের নাজির শংকরপুর চাতালের মোড় এলাকায় আফজাল হোসেন (৩৫) নামে এক যুবক প্রতিপক্ষের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। বোমা ফাটিয়ে ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে খুন করা হয়েছে। তবে পুলিশ খুনের সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নিহত আফজাল নাজির শংকরপুর চাতালের মোড় এলাকার জনৈক কবির হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া সলেমান হোসেনের ছেলে। রাত সাড়ে সাতটার দিকে আফজাল এলাকার কেয়া মটরসের পাশের পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় নাজির শংকরপুর বরফকল এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ট্যারা সুজনের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা তিনটি ইজিবাইকে করে সেখানে আসে। তারা আফজালকে পুকুরপাড়ে দেখতে পেয়ে কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। ঘটনাটি স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা সেখানে তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণও করে তারা। এরপর তারা দৌড়ে ইজিবাইকে উঠে নাজির শংকরপুর বরফকল এলাকার দিকে চলে যায়। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর জখম আফজালকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।
হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসক দেওয়ান তাসমিয়া আজাদ জানান, মাথায় গুরুতর জখমসহ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র জানায়, আফজালের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৩টি কোপানোর চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহতের পিতা সলেমান হোসেন জানান, নাজির শংকরপুর চাতালের মোড়ে তার একটি চায়ের দোকান রয়েছে। আফজাল তার দোকানে কাজ করার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ঘটনার সময় তার ছেলে চায়ের দোকান থেকে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা এসে তার ছেলেকে কোপায়। কিন্তু কারা এবং কী কারণে তার ছেলেকে হত্যা করেছে তা তিনি জানেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, আফজাল ভালো ছেলে ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকা-ের অভিযোগ রয়েছে। তিনি একটি মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন। রমজান মাসের মাঝামাঝিতে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর সন্ত্রাসী ট্যারা সুজনদের সাথে তিনি বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। কিছুদিন তিনি ট্যারা সুজনকে মারধরও করেন বলে প্রচার রয়েছে। এরই জের ধরে হয়তো ট্যারা সুজন ও তার সহযোগীরা আফজালকে হত্যা করেছে।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, কী কারণে কারা আফজালকে হত্যা করেছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু করা হয়েছে।

Lab Scan
ভাগ