মণিরামপুরে দুর্নীতির অভিযোগে পিআইও অফিসে দুদকের অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার,মণিরামপুর (যশোর) ॥ মণিরামপুরে টিআর-কাবিটা প্রকল্পে সীমাহীন অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার(পিআইও) কার্যালয়ে রবিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম অভিযান চালিয়েছে। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের সময় পিআইও আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিদ কিংকর্তৃব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েন। পরে তাকে সাথে নিয়ে দুদকের দুই সদস্যের টিম দুই শতাধিক প্রকল্পের মধ্যে শুধুমাত্র কাবিটার একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মণিরামপুর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নকল্পে সরকার টিআর-কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ করে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে দিয়ে তড়িঘড়ি করে নামকাওয়াস্তে উন্নয়ন দেখিয়ে সমুদয় অর্থ উত্তোলনপূর্বক আত্মসাত করা হয়। আর এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মহানায়ক হিসেবে পিআইও আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিদের নাম এলাকায় প্রচার হয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে অনুসন্ধানীমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে প্রকল্পসমূহ সম্পর্কে পৃথকভাবে তিনজন সাংবাদিক তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেন। কিন্ত পিআইও আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিদ তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে আনোয়ার হোসেন এবং এসএম মজনুর রহমানকে ১২ অক্টোবর চিঠি দেন। কিন্তু নূরুল হককে কোনো চিঠি দেননি। পরবর্তিতে তিন সাংবাদিকের পক্ষ থেকে এসএম মজনুর রহমান একই তথ্য প্রাপ্তির জন্য পুনরায় আবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কাছে। ফলে তারা তথ্য প্রদান করতে নির্দেশনা দিলেও পিআইও আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিদ কোনো তথ্য সরবরাহ করেননি। সর্বশেষ এ ব্যাপারে অভিযোগ করা হয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচলক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক(এনফোর্সমেন্ট) বরাবর।
ফলে দুদক অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করতে মাঠে নামে। তারই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে যশোর দুদকের সহকারী পরিচালক(এডি) মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি টিম রবিবার বেলা ১২ টার দিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) এসএম আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিদের কার্যালয়ে আসেন। অফিসের একটি সূত্র জানায়, এ সময় দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে পিআইও কিংকর্তৃব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েন। পরবর্তিতে দুদকের সদস্যরা পিআইওকে সাথে নিয়ে দুই শতাধিক প্রকল্পের মধ্যে শুধুমাত্র মশ্বিমনগরের হাজরাকাটি এলাকায় কাবিটার একটি কালভার্ট পরিদর্শন করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে এ সময় তারা আবেদনকারীকে ডাকেনি। এ ব্যাপারে জানার জন্য পিআইও আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে যশোর দুদকের সহকারী পরিচালক মোশারেফ হোসেন অভিযানের সত্যতা স্বীকার করে জানান, সময় স্বল্পতার কারণে শুধুমাত্র একটি প্রকল্প পরির্দশন করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে দুদকের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।