শার্শার গৃহবধূ রেহেনাকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শার্শার চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ রেহেনা খাতুন হত্যা মামলার আসামি নিহতের স্বামী খলিলুর রহমানের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সাথে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার যশোরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক এ রায় প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্ত খলিলুর রহমান শার্শা উপজেলার পুটখালী গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে শার্শা উপজেলার ইছাপুর গ্রামের সাখায়াত উল্লার মেয়ে রেহেনার সাথে খলিলুরের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। ২০০৯ সালের প্রথম দিকে খলিলুর জোরপূর্বক রেহেনার আপন ছোট বোন মিনা খাতুনকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। এরপর রেহেনার পরিবার মিনা খাতুনকে খলিলুরের কাছ থেকে নিয়ে যান এবং তাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়া হয়। এতে করে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন খলিলুর। তিনি স্ত্রী রেহেনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এক পর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে পিতার বাড়িতে চলে যান রেহেনা। এরপর থেকে খলিলুর প্রায় রেহেনাদের বাড়ির আশপাশে গিয়ে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। মাঝে মধ্যে তিনি রেহেনার সাথে কথা বললেও শ্বশুরবাড়িতে যাননি। তবে ২০০৯ সালের ১৪ জুন দুপুর ১২ টার দিকে খলিলুর তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে রেহেনার পিতার বাড়িতে যান। পরে বাগআঁচড়ায় সিনেমা হলে যাওয়ার কথা বলে রেহেনাকে সাথে নিয়ে যান। কিন্তু রেহেনা রাতে বাড়িতে আর ফিরে আসেননি। এ কারণে তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন সকাল সাতটার দিকে ইছাপুর গ্রামের একটি মাঠ থেকে থেকে রেহেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় রেহেনার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় খলিলুরকে আসামি করে শার্শা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের মা আবেদা খাতুন। মামলাটি তদন্ত করেন বাঁগআচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই গোলাম মোস্তাফা। তদন্তে উঠে আসে রেহেনাকে মাারধরের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন খলিলুর। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা আসামি খলিলুরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এই মামলায় আসামি খলিলুরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে উল্লিখিত সাজা প্রদান করেন।

Lab Scan
ভাগ