শরণখোলায় বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে

 

শরণখোলা(বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় গাছের সাথে বেঁধে বড় ভাই ও ভাবীকে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছোটভাই ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের প্রায় একমাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বড় ভাইয়ের মৃত্যু হয়। উপজেলার উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বড় ভাই জাহাঙ্গীর তালুকদারকে নির্যাতন করেন ছোট ভাই আলমগীর তালুকদার। এ ব্যাপারে শরণখোলা থানায় মামলা করতে গেলে তারা নানান অজুহাতে মামলা নেওয়া হচ্ছে না। এ ঘটঁনায় ন্যায় বিচার পেতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রোববার বিকেলে শরণখোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলেন করা হয়েছে ।
লিখিত বক্তব্যে নিহতের ছেলে মো. নাইমুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে চাচাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে আসছে। ঘটনার দিন গত ১১ এপ্রিল সকালে চাচা আলমগীর তালুকদার (৪৮) আমাদের বাড়ির সীমানার মধ্যের গাছ থেকে জোরপূর্ব ডাব পাড়ার চেষ্টা করেন। এসময় আমার পিতা জাহাঙ্গীর তালুকদার বাধা দিলে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এই নির্যাতনে চাচা আলমগীর তালুকদার ও চাচাতো ভাই রোকন তালুকদার অংশ নেন। এ সময় রডের আঘাতে আমার আব্বার একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং দুটি দাঁত মারাত্মকভাবে জখমসহ বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পিতার চিৎকার শুনে আমার মা তাসলিমা বেগম ছুটে গেলে তাকেও পরনের শাড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারতে থাকেন তারা। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় পিতাকে উদ্ধার করে শরণখোলা হাসপাতলে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনায় স্থানন্তর করেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসা শেষে বাড়ি আনার কয়েকদিন পর মারা যান তিনি।
মো. নাইমুর রহমান বলেন,এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। আমার আরেক চাচা শরণখোলা সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. জামাল হোসেন তালুকদারের পরিকল্পনায় আমার আব্বাকে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে তার ইন্ধনে হত্যাকারী আলমগীর তালুকদার ও তার ছেলে রোকন তালুকদার আমাদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। থানায় মামলা নিচ্ছে না পুলিশ।

শরণখোলা থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন বলেন, পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

Lab Scan
ভাগ