যশোরে নির্মম নির্যাতনে যুবক ইরিয়ান হত্যা ঘটনায় ১৫ জনের নামে মামলা

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার সুজলপুরের ইরিয়ানকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় গত রোববার রাতে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেছেন নিহতের পিতা খোরশেদ আলম। তবে এখনো পর্যন্ত পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি।
আসামিরা হলেন-সুজলপুরের মৃত অহেদ আলীর ছেলে শরীফ (৩৫), মকবুলের ছেলে গোলাপ (২৫), সাহেব আলীর ছেলে সাগর (৩৫), মৃত ছদু মিয়ার ছেলে আব্দুস সালাম মিঠু (৪০), ইফাজ্জেল হোসেন কুটিমিয়ার ছেলে জাকারিয়া (২৫) ও আনোয়ার হোসেন (৪০), জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর ছেলে নাহিদ (২২), বিশে গাজীর ছেলে লাবু (২৮), কিনুর ছেলে জহুরুল (৩৫), আকবর হুজুরের ছেলে আতিকুর (২৫), কামরুলের ছেলে শিহাব (২০), শরীফের ছেলে আল আমিন (২২), আকবরের ছেলে আল আমিন (২২), ভেকুটিয়া গ্রামের শহিদুলের ছেলে মনিরুল (২৫) ও রওশনের ছেলে তৌহিদুল (২৫)।
সুজলপুর আদর্শপাড়ার (এক নম্বর পাড়া) বাসিন্দা খোরশেদ আলম মামলায় উল্লেখ করেছেন, আসামিরা অবৈধ মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার ছেলে ইরিয়ান তাদের এহেন কার্যকলাপের প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনায় আসামিদের সাথে তার ছেলে ইরিয়ানের শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে আসামিরা খোরশেদ আলমের দুই ছেলে ইরিয়ান ও নচুয়া গাজীকে খুন জখমের হুমকি প্রদান করেন। এ কারণে ইরিয়ান ও নচুয়া প্রাণভয়ে পালিয়ে কৃষ্ণবাটিতে তাদের বোন শাহনাজের বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত ২১ মে সকাল ১০ টার দিকে উল্লিখিত আসামিরা ও তাদের সহযোগীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ৭টি মোটরসাইকেলে করে কৃষ্ণবাটিতে শাহনাজের বাড়িতে হামলা চালান। তারা শাহনাজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে খাটের নিচে পালিয়ে থাকা ইরিয়ানকে জোরপূর্বক বের করে নিয়ে আসেন। তারা হত্যার উদ্দেশ্যে উঠানে ফেলে তাকে হকিস্টিক ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে সুজলপুর জামতলার মোড়ে নিয়ে আসেন আসামিরা। সেখানেও তাকে বেধড়ক মারধর করলে ইরিয়ানের বুকের পাজর ভেঙে যায়। হাতের কব্জিও ভেঙে যায়। এক পর্যায়ে আসামিরা মোটরসাইকেলের প্লাগের তার খুলে ইরিয়ানের কানের ভেতর ইলেক্ট্রিক শক দেন। চাকু দিয়ে ইরিয়ানের পিঠের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। মারধরের কারণে ইরিয়ান অজ্ঞান হয়ে পড়লে আসামিরা তাকে ওই অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যান। এরপর বেলা ১১ টার দিকে ইরিয়ানকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১ টার দিকে ইরিয়ানের মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই বিমান তরফদার জানান, এজাহারভুক্ত আসামিদের কাউকে এখনো আটক করা যায়নি। তবে তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

 

 

Lab Scan
ভাগ