পুরুষের ছদ্মবেশে থাকা তরুণী প্রতারণার অভিযোগে আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পুরুষের ছদ্মবেশে থাকা ফারজানা আক্তার স্নেহাকে (১৯) নামে এক তরুণীকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা ও মোবাইল ফোনসেট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শহরের রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সে শহরের লোন অফিস পাড়ার মো. শাহজাহানের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, চৌগাছা উপজেলার বেড় গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত ইছহাক ঢালীর ছেলে হাবিবুর রহমানের এলাকায় চায়ের দোকান রয়েছে। পুরুষের ছদ্মবেশে থাকা স্নেহা প্রায় সেখানে গিয়ে চা, পান, সিগারেট খেতো। এরই সুবাদে হাবিবুর রহমান তাকে চিনতেন। তিনি তাকে পুরুষ হিসেবে জানতেন। এরই মধ্যে হাবিবুর রহমানের বড় মেয়ে নাছরিন বেগমের পা ভেঙে যাওয়ায় গত ১৫ মে তাকে যশোরের দড়াটানা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি হাবিবুর রহমান পুরুষের ছদ্মবেশে থাকা স্নেহাকে জানালে সে সেখানে গিয়ে নাছরিন বেগমের খোঁজখবর নেয়। এক পর্যায়ে স্নেহা তাকে জানায়, ‘যশোর শহরের উচ্চপদস্থ ডাক্তারদের সাথে তার অনেক চেনাজানা আছে। সে কম খরচে চিকিৎসা করিয়ে দিতে পারবে।’ গত মে হাবিবুর রহমান চিকিৎসা করানোর জন্য মেয়ের বিকাশ নম্বরে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। তার স্ত্রী নাজমা বেগমের কাছে নগদ আরও ১০ হাজার টাকা ছিলো। ওইদিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে হাবিবুবের স্ত্রী নাজমা বেগমকে ডেকে আনে স্নেহা। তখন মেয়ের চিকিৎসা করানোর কথা বলে নাজমা বেগমের কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা এবং কৌশলে একটি এন্ড্রয়েড ফোনসেট নিয়ে চম্পট দেয় সে। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান গত বৃহস্পতিবার রাতে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই জয়ন্ত সরকার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইদিন দিবাগত রাত সোয়া চারটার দিকে রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুরুষের ছদ্মবেশে থাকা স্নেহাকে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনসেটটি উদ্ধার করা হয়।