ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সংকট চরমে

 

 

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ॥ ঝিনাইদহ আড়াই শ বেড জেনারেল হাসপাতালে পাঁচ মাস ধরে গ্যস্ট্রিক তথা অ্যাসিডিটির ওষুধ নেই। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বেশ কিছু জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সাপ্লাই বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) গ্যাস্ট্রিকের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করতে পারছে না। এদিকে সরকারি ওষুধ না পেয়ে হতদরিদ্র রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই হাসপাতালের ওষুধ না পেয়ে কিনতেও পারছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ওমিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল, এন্টাসিড, ভিটামিন বি ও ডায়াবেটিসের ওষুধ মেটফরমিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফার্মাসিস্ট ও ভান্ডার রক্ষকরা বলছেন বগুড়ার ইডিসিএল থেকে এ সব জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু চাহিদা থাকার পরও দিতে পারছে না। ফলে প্রতিনিয়ত নাজেহাল হতে হচ্ছে হাসপাতালের স্টাফদের।
ঝিনাইদহ আড়াই শ বেড জেনারেল হাসপাতালের স্টোরকিপার সানোয়ার হোসেন জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। যোগদান করার পর থেকেই দেখেছে কিছু ওষুধ ভান্ডারে নেই। তারা ইডিসিএলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। সরবরাহ করলেই হাসপাতালের ফার্মেসি ও ইনডোরে সাপ্লাই দেয়া হবে। তিনি বলেন, ২তোমধ্যে আমরা ৫০ হাজার এন্টাসিড, ৩০ হাজার ওমিপ্রাজল ও ৫০ হাজার পেনটোপ্রাজল পেয়েছি। শনিবার থেকে সেগুলো দেয়া হবে।
হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট রুহুল আমিন জানান, সপ্তাহে তাদের এক লাখ করে গ্যাসের বড়ি লাগে। সেই হিসেবে বছরে ৫২ লাখ বড়ি দরকার হয়। তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিটি রোগী গ্যাসের বড়ি নেয়। ফলে সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫ হাজার গ্যাসের বড়ি প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, জরুরিভাবে কিছু ওষুধ (গ্যস্ট্রিকের) পাওয়া গেছে। তা হয়তো ৫/৬ দিন চলতে পারে। ফার্মাসিস্ট রুহুল আমিন বলেন, ৪/৫ মাস ধরে গ্যাসের কোনো ওষুধ ছিল না। এ সময়টা অনেক নাজেহাল হতে হয়েছে। বিশেষ করে কিছু প্রভাবশালী রোগী তাদেরকে নানা ধরনের গালমন্দও করেছেন। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল, হাসপাতালের স্টাফ ও আড়াই’শ বেড জেনারেল হাসপালে ইর্ন্টানি করতে আসা শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন আইটেমের ওষুধ নিয়ে থাকেন। তাদের কারণে দ্রুত ভান্ডারের ওষুধ ফুরিয়ে যায়। বিশেষ করে গ্যাসের বড়ির সংকট দেখা দেয়। এর আগে হাসপাতালের আশেপাশে বেসরকারি ক্লিনিকে কর্মরর্ত ম্যাটস, আইএইচটি ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে এন্টিবায়োটিক ওষুধ উত্তোলনের সময় ধরা পড়ে। কিন্তু তাদের কোনো শাস্তি দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ওই চক্রটি এখনো একইভাবে ওষুধ উত্তোলন করে যাচ্ছে।
ব্যাপারীপাড়ার হতদরিদ্র সবুরা খাতুন নামে এক রোগী বলেন, গত ৫ মাস ধরে তিনি হাসপাতাল থেকে কোনো গ্যাসের বড়ি পাননি। পাগলাকানাই এলাকার রুহুল শেখ জানান, বাজারে একটা গ্যাসের বড়ি ৮/১০ টাকা দাম। হাসপাতাল থেকে তিনি কোনো ওষুধ পাননি।
বিষয়টি জানতে আড়াই শ বেড জেনারেল হাসপালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজাউল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সিভিল সার্জন ডা. সুপ্রা রানী দেবনাথ জানান, তিনি তো হাসপাতালের দায়িত্বে নেই। তবে তিনি শুনেছেন, ওষুধ কেনার জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সব রকমের ওষুধ সাপ্লাই আছে বলেও তিনি জানান।