রামপালে স্কুল ছাত্র শোয়াইবের আত্মহত্যা প্রধান শিক্ষকের ক্ষমা না পাওয়াই কারণ বলে দাবি পরিবারের

 

রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গিলাতলা সরকারি বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ ম শ্রেণির ছাত্র শোয়াইব সেখ (১৬) নিজ বাড়িতে ঘরের আড়ার সাথে রশি নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের কাছে পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার পরও ক্ষমা না পওয়ায় মানসিক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যা করে বলে পরিবারের দারি। তার সহপাঠীরাও একই দাবি করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি দাবি করে।এ ঘটনায় রামপাল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাটের মর্গে প্রেরণ করেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার গিলাতলা হাওলাদার পাড়া গ্রামের রুহুল সেখের পুত্র শোয়াইব স্থানীয় গিলাতলা সরকারি বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯ ম শ্রেণির ছাত্র। তার বিরুদ্ধে অসমাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শনোর নোটিশ পাঠান। শোয়াইবের পরিবার নোটিশটি পায়। শোয়াইবের পিতা রুহুল শেখ ঢাকায় থাকেন। মূলত তার চাচা-ই তার অভিভাকত্ব পালন করেন। গত বুধবার তার চাচা সাইফুল ইসলাম শোয়াইবকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে যান। তারা লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রধান শিক্ষকের পা ধরে মাপ চান।
এ সময় প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার পাল ও সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল পাল তাদের তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের ক্ষমা না পেয়ে সে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। বিশেষ করে পরিবারের কাছে সে ছোট হয়ে যায় বলে তার তার পরিবারের সদস্যরা জানান। পরে বুধবার রাত সাড়ে ৯ টায় নিজ বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এদিকে, সাংবাদিকরা নিহতের বাড়িতে গেলে তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। খবর পেয়ে তার সহপাঠীরা মৌন প্রতিবাদ করে সাংবাদিকদের পথ আটকে দেয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে যে, প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার পাল ও উজ্জ্বল পাল শোয়াইবকে মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করার কারণে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তারা তদন্তসহ বিচার দাবী করে।

Lab Scan
ভাগ