থেমে থেমে বৃষ্টিতে যশোরাঞ্চলের ৬ জেলায় বোরো আবাদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার॥ ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে যশোরাঞ্চলের ৬ জেলার বোরো আবাদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কৃষকদের দাবি টানা বৃষ্টির কারণে তারা ৪০ ভাগ ধানও ঘরে তুলতে পারবেন না। শ্রমিক সংকটের কারণেও তারা চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছেন। তবে এখনও এ অঞ্চলের বোরো আবাদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই কৃষি বিভাগের কাছে। কৃষি বিভাগ বলছে বৃষ্টি থেমে গেলে কী পরিমাণ বোরো আবাদের ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে যশোরাঞ্চলের ৬ জেলায় ৩৭ লাখ ৮ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে যশোর জেলায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৫ হেক্টর, ঝিনাইদহে ৮৯ হাজার ১৫০ হেক্টর, মাগুরায় ৩ লাখ ৯ হাজার ৬৩৫ হেক্টর, কুষ্টিয়ায় ৩ লাখ ৫ হাজার১২৫ হেক্টর, চুয়াডাঙ্গায় ৩ লাখ ৬ হাজার ৭০৯ হেক্টর ও মেহেরপুর জেলায় ১ লাখ ৯ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমি রয়েছে। এবছর বোরো আবাদের জন্য উপযুক্ত আবহাওয়া থাকায় প্রায় প্রত্যেক এলাকাতেই ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এসব ধান ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে টানা বৃষ্টি কৃষকের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। গত তিন দিনের থেমে থেমে বৃষ্টির পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন চাপা পড়ে আছে।
যশোরসহ আশপাশ এলাকার বিভিন্ন মাঠে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠে বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা অধিকাংশ ধানেই শেকড় গজিয়েছে। বিশেষ করে যেসব ধান কেটে জমিতে ফেলে রাখা হয়েছে তার অবস্থা একেবারেই শোচনীয়। আর যেগুলো কাটা হয়নি তাও পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় এসব ধানের বেশিরভাগই নষ্ট হবে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন।
যশোর জেলার চৌগাছার সুন্দলী এলাকার কৃষক আজিবর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় অশনি আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। ৫ বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে রয়েছে। এসব ধান ঘরে তোলা কোনো প্রকার সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। তিনি বলেন, পানিতে ভেজা এসব ধান কেটে যে ঘরে তোলা দরকার কিন্তু শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত মূল্যে দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সামনে কীভাবে সংসার চালানো নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন।
একই এলাকার কৃষক মঞ্জুরুল আলম বলেন,২যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে কৃষকরা ৪০ ভাগ ধানও ঘরে তুরতে পারবেন না। তা ছাড়া ধান আবাদের লাভের সাথে বড় ধরণের যোগ রয়েছে বিচালির। কিন্তু এবছর বিচালি সংরক্ষণের কোনো সুযোগ থাকছেনা। পানিতে ডুবে থাকা এসব ধানের মানও কমে যাবে। এর ফলে একদিকে বাজারদর যেমন পড়ে যাবে তেমন খাদ্যের অনুপযোগী হয়ে পড়বে এসব ধানের চাল। সব মিলিয়ে সামনে আমাদের কঠিন সময় আসছে।

 

Lab Scan
ভাগ