ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে টেস্ট দলে মোসাদ্দেক

স্পোর্টস ডেস্ক॥ একজন অলরাউন্ডারের জায়গায় কেবল একজন অফ স্পিনার নেওয়াই যথেষ্ট মনে হচ্ছে না নির্বাচকদের কাছে। তাই অনেকটা চমক জাগিয়ে মোসাদ্দেক হোসেনকে টেস্ট দলে যুক্ত করেছেন তারা।
অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের চোটে এরই মধ্েয শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে এসেছেন অফ স্পিনার নাঈম হাসান। শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানান, মিরাজের অনুপস্থিতিতে চট্টগ্রাম টেস্টের জন্য দলে একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডারের প্রয়োজন অনুভব করছেন তারা।
“যেহেতু মিরাজ নেই, নাঈম কিছুদিন ধরে খেলার বাইরে আছে। তাই একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার নিলাম। ক্যাম্পে দুজন কেমন করে, কী অবস্থায় আছে, সেটা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
নির্বাচকদের এই চাওয়ার জন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় কিছু না করেই টেস্ট দলে ফিরলেন মোসাদ্দেক। ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ মৌসুমে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে ছিলেন নিষ্প্রভ।
দুই মৌসুম মিলিয়ে ৪১.৫ গড়ে ২ উইকেট নেন মোসাদ্দেক। এই সময়ে তার স্ট্রাইক রেট ১১৭।
২০১৯-২০ মৌসুমে ব্যাটিংয়ে ৩ ম্যাচে ৫ ইনিংস মিলিয়ে ২৬ গড়ে করেন কেবল ১০৪ রান। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪৮। ২০২০-২১ মৌসুমে ৩ ম্যাচে ৫ ইনিংসে দুই ফিফটিতে ৩৭.৫০ গড়ে রান ১৫০। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫০।
২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশের শততম টেস্ট দিয়ে এই সংস্করণে অভিষেক হয় মোসাদ্দেকের। অভিষেকে খেলেন ৭৫ রান দারুণ ইনিংস। পরের বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ৫৩ বলে খেলেন অপরাজিত ৮ রানের লড়াকু ইনিংস।
২০১৯ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামেই প্রথম টেস্টে আটে নেমে ৮২ বলে উপহার দেন অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংস। পরের ইনিংসে তিনে নেমে করতে পারেননি তেমন কিছু। এরপর জায়গা হারান দলে।
টেস্টে পাঁচ ইনিংসে বোলিং করেও কোনো উইকেট পাননি মোসাদ্দেক। সাদা বলে অফ স্পিনে মোটামুটি সফল হলেও লাল বলে ততটা কার্যকর নন তিনি। ৪২ ম্যাচে ৫২.১৭ গড়ে নিয়েছেন ২৯ উইকেট। স্ট্রাইক রেট ৯২.২। সেরা বোলিং ৪/৩৩।
থমকে থাকা টেস্ট ক্যারিয়ারকে গতি দিতে প্রস্তুতি পর্বে ভালো করতে হবে তাকে, যা শুরু হবে ৮ মে। সেদিনই বাংলাদেশে পৌঁছাবে শ্রীলঙ্কা।
জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ১৫ মে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৩ মে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
এই সিরিজ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।
বাংলাদেশ টেস্ট দল: মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, ইয়াসির আলি চৌধুরি, মোসাদ্দেক হোসেন, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, ইবাদত হোসেন চৌধুরি, শহিদুল ইসলাম, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, নুরুল হাসান সোহান, রেজাউর রহমান রাজা, শরিফুল ইসলাম (ফিটনেস প্রমাণ সাপেক্ষে)।

Lab Scan
ভাগ