সংবাদ সম্মেলনে শ্মশান দখলের অভিযোগ পূজা উদযাপন কমিটির নেতা বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দেবেন ভাস্করের বিরুদ্ধে রাজারহাট মহাশ্মশান দখলের চক্রান্তের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এ সংবাদ সম্মেলন করেন রাজারহাট মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি শ্রী রতন কুমার পাল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রতন পালন বলেন, যশোর সদরের রাজারহাট মোড়ে অবস্থিত শ্মশান ঘাটটি স্থানীয় পালপাড়া, মালোপাড়া, রাজারহাট বাজারপাড়া ও দাসপাড়ার যৌথ উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃত ব্যক্তিদের সৎকারের পাশাপাশি কালিপূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এখানে দীর্ঘকাল ধরে পালিত হয়ে আসছে। প্রতি তিন বছর অন্তর একটি সুশৃঙ্খল কমিটির মাধ্যমে শ্মশান ঘাটটি পরিচালিত হয়ে আসলেও এ যাবৎ কোনোদিন কোনো সমস্যা হয়নি। এরই মধ্যে গত তিন-চার বছর আগে শ্মশানটি পরিচালনার ব্যয় নির্বাহের জন্যে সামনে একটি মার্কেট তৈরি করা হয়। গঠিত শ্মশান পরিচালনা কমিটিই ওই দোকান ঘর পরিচালনা করে থাকেন। এরপর থেকেই সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবেন ভাস্কর শ্মশানের কর্তৃত্ব নিতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শ্মশানের পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় পর রেজুলেশনের মাধ্যমে নতুন একটি কমিটি গঠন করলেও পূজা উদযাপন পরিষদের সদর উপজেলার সভাপতি দেবেন ভাস্কর চরম ষড়ন্ত্র শুরু করেন। কমিটি সঠিকভাবে গঠন হয়নি মর্মে তিনি অভিযোগ তুলে নির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে ফোনে অশ্রাব্য গালিগালাজ করছেন। এমনকি তাকে সন্তুষ্ট না করলে নতুন কমিটি গঠন করে শ্মশানের কর্তৃত্ব তিনি নিজেই নিয়ে নেবেন বলে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে শ্মশান কমিটির সবাই মিলে সভা করলেও তিনি তাতে আরও চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
এ পরিস্থিতিতে গত ৬ এপ্রিল তিনি যশোর লালদীঘিপাড়ের হরিসভা মন্দিরে মিমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সামনে শ্মশান কমিটির নেতৃবৃন্দকে গালিগালাজ ও অপমানমূলক কথা বলেন। এসময় তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন শ্মশানের কমিটি করতে হলে টাকা দিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করে নির্বাচন করতে হবে। অথচ শ্মশানের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো নির্বাচনের বিধি নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাজারহাট শ্মশান কমিটির সভাপতি রতন কুমার পাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগামী ৫ মে তারা শ্মশান ঘাট মোড়ে একটি সভার আহবান করেছেন। এ খবর দেবেন ভাস্কর জানতে পেরে একই দিনে একই সময়ে তিনি পাল্টা সভা ডেকেছেন। পূর্বের সভাটি বানচাল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাই মূলত তার উদ্দেশ্য। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো।