তালায় কলেজছাত্র নির্যাতনের মামলার প্রধান আসামি আকিব আটকের পর জামিনে মুক্ত

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ তালায় কলেজছাত্রকে নির্যাতন করে ভিডিও চিত্র ধারণকারী অপহরণকারী বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আকিব গ্রেফতারের ২০ ঘণ্টা পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরার বিচারক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক মহিদুল ইসলাম তাকে দু হাজার টাকা বন্ডে জামিনে মুক্তির আদেশ দেন। সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোর্ট উপপরিদর্শক (সিএসআই) হাবিবুর রহমান জানান, সৈয়দ আকিবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি তার জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক মহিদুল ইসলাম তাকে দু হাজার টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন। জাামিননামার কাগজ জমা দিয়েই আদালতের হাজত থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রাজীব রায় চৌধুরী সঞ্জয়।
এর আগে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফখরুল আলম খানের নেতৃত্বে গত বুধবার বিকেলে খুলনার ডুমুরিয়া থানা এলাকা থেকে আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা আকিবকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ আকিবকে আদালতে পাঠায় । মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তালা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) চন্দন কুমার জানান, আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, জাতপুর গ্রামের শোয়েব আজিজ তন্ময়কে তার এক বন্ধু গত রবিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে তালা বাজারে ডেকে নেয়। পরে তাকে তালা সরকারি কলেজ হোস্টেলের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আকিব, শ্রমিক লীগ নেতা সৌমিত্র চক্রবর্তী এবং ছাত্রলীগের নাহিদ হাসান উৎস্য, সজীব ও জয় তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। সৈয়দ আকিব ও তার সহযোগীরা তাকে বিবস্ত্র করে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয় এবং দৈহিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে জখম করে। এ অবস্থায় ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তন্ময়ের বাড়িতে ফোন করে তার মা নার্গিস সুলতানার কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মোবাইল ফোনে তন্ময়ের মারধরের শব্দ ও আহাজারি শোনানো হয়। খবর পেয়ে তন্ময়ের দু চাচাত ভাই কলেজ হোস্টেলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তালা হাসপাতালে। সেখানেও আকিব ও তার সহযোগীরা আবারও তাকে মারধর করার হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় তন্ময়ের বাবা তালা থানায় সৈয়দ আকিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বহুল আলোচিত এই ঘটনা টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। জেলা ছাত্রলীগ সৈয়দ আকিবকে তাদের সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে। পুলিশ সৈয়দ আকিবকে খুঁজতে থাকে। অবশেষে বুধবার বিকেলে পুলিশ গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে তাকে থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়।

Lab Scan
ভাগ