রাজগঞ্জে দ্বিতল ভবন ভেঙে উচ্ছেদের অভিযোগে ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারের একটি দ্বিতল ভবন ভেঙে উচ্ছেদের অভিযোগে ২১ জনের বিরুদ্ধে বুধবার আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। একই উপজেলার হানুয়ার গ্রামের মৃত নুরুল হক বিশ্বাসের ছেলে বর্তমানে যশোর উপশহর বি-ব্লকের বাসিন্দা আমিরুল হক মামলাটি করেছন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য মনিরামপুর থানা পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছন বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী ফরিদুল ইসলাম।
আসামিরা হলেন মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ, সোহেল রানা, শিমুল, আব্দুল গাফ্ফার, রনি ঘোষ, আব্দুস সামাদ, রবিউল ইসলাম, জাকির হোসেন, আলমগীর হোসেন, জিয়ার, সুমন, ঝাঁপা গ্রামের জালাল উদ্দিন, হানুয়ার গ্রামের শাহিন, নওশের আলী, আকবর আলী, মিলন হোসেন, শরিফুল ইসলাম, সজল, আলিম, মোবারেকপুর গ্রামের রাশেদ আলী ও খালিয়া গ্রামের হারিয়াল।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, আমিরুল হকের রাজগঞ্জ বাজারে দ্বিতল ভবনসহ ‘হক মার্কেট’ নামে একটি মার্কেট রয়েছে। যা তার বৈধ সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে আসামিরা তার জমি ও ভবন দখলের ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। আসামি আব্দুল লতিফের হুকুমে সোহেল রানা ও শিমুলের নেতৃত্ব অন্য আসামিরা গত ১৩ মার্চ দুপুরে ভাড়াটিয়াদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন এবং ভাঙচুর শুরু করেন। পরে এ খবর পেয়ে আমিরুর হক সেখানে আসেন এবং দেখতে পান, ভবনের অধিকাংশ দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। তখন আসামিরা সেখানে ছিলেন না। এরপর গভীর রাতে আসামিরা আবারও ভবনের বাকি অংশ ভাঙচুর শুরু করেন এবং পর্যায়ক্রমে ১৯ মার্চ পর্যন্ত মার্কেট ও দ্বিতল ভবন ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দেন। আসমিরা ট্রলিতে করে ইট, গ্রিল, জানালা, রড, আসবাবপত্র ইত্যাদি নিয়ে যান। এর ফলে আমিরুল হকের প্রায় সাড়ে ৪৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভাঙচুরের সময় বাধা দেওয়ায় আসামিরা ভাড়াটিয়াদের খুন জখমের হুমকিও দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ গ্রহণ না করায় বাধ্য হয়ে আমিরুল হক আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।