বাঘারপাড়ায় মহিলা অধিদপ্তরের পিয়নের প্রতারণায় হয়রান নারীরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর বাঘারপাড়া উপজেলার মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস পিয়নের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি এসব অনিয়মের মধ্যে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাঘারপাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস পিয়ন শাহরিয়ার পৌরসভা অভ্যন্তরে ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেড় শতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ২০১৮ সালে বাঘারপাড়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ওই পরিবারগুলোর কাছ থেকে প্রতি কার্ডের জন্য তিনি দুই থেকে তিন হাজার করে টাকা নেন। দীর্ঘ চার বছর পার হলেও সে সব পরিবার আজও ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা কার্ড পায়নি। অফিসে আসলেই শাহরিয়ার বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। সম্প্রতি এসব ভাতা কার্ড বঞ্চিতরা অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
বাঘারপাড়া পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আরজিনা খাতুন জানান, গত চার বছর আগে শাহরিয়ারের কাছে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা কার্ড করে দিবেন। তার সাথে যোগাযোগ করলেই তিনি নানা তালবাহানা করেন। কখনও ব্যাংক একাউন্ট, কখনোবা এনআইডি, ছবি ইত্যাদি দিতে দিতে চারটি বছর ধরে তারা মানষিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অফিসে আসলেই শাহরিয়ার বলেন, ব্যাংকে খোঁজ নেন। যে কোন সময় টাকা চলে আসবে। আরজিনা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ব্যাংকে যেতে আর ভাল লাগে না।
একই ওয়ার্ডের মুসলিমা খাতুন, পিয়ারি খাতুন, মাহমুদা খাতুনও একই অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনীর সাথে অনেকবার যোগাযোগ করেছি। তিনিও কোন সমাধান দিতে পারেননি।
শাহরিয়ার শুধু পৌর অভ্যন্তরেই এ কাজ করেননি, বিভিন্ন ইউনিয়নে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামেও টাকা নিয়েছেন। তার কারণে অনেকেই হয়রানি হয়েছেন। শাহরিয়ার বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকেও নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নেন। বাল্যবিয়ের খবর পেলেই সেখানে গিয়ে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেন এই শাহরিয়ার। তিনি সাত বছর ধরে এই অনিয়ম করে চললেও অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহরিয়ার বলেন, ‘আমি কম্পিউটার বাবদ কিছু খরচ নিয়েছি। আর বাকি সব অভিযোগ মিথ্যা।’
বাঘারপাড়া মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী জানিয়েছেন, ‘শাহরিয়ারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা হবে।’
মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক মোহম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’