দুদকের চাকরিচ্যুত শরীফের হাইকোর্টে রিট

লোকসমাজ ডেস্ক॥ চাকরি ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চাকরিচ্যুত উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। রোববার এডভোকেট মিয়া মো. ইশতিয়াক হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন। রিটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব ও চেযারম্যান,আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে রিটের বিবাদী করা হয়েছে। এডভোকেট মিয়া মো. ইশতিয়াক বলেন, কোনো কারণ না দর্শিয়ে যেকোনো কর্মচারীকে অপসারণ করার ৫৪ (২) বিধিতে দুদকের যে ক্ষমতা এটা সংবিধান পরিপন্থি। এ কারণে এ বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আর এ বিধির অধীনে শরীফ উদ্দিনকে অপসারণের বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। অর্থাৎ দুদকের ৫৪(২) ধারা কেন আইনগত কতৃত্ববর্হিভূত হবে না এবং শরীফ উদ্দিনের চাকরি কেন পুনর্বহাল করা হবে না এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি হবে বলে জানান তিনি।
গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি দুদকের ৫৪(২) ধারায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি চাকরি পুনর্বহালের জন্য দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর রিভিউ আবেদন করেন শরীফ উদ্দিন। দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) বিধিমালা-২০০৮-এর বিধি ৫৪ (২)-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মো. শরীফ উদ্দিন (উপ-সহকারী পরিচালক) দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যক্রম, পটুয়াখালীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো। চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন তার সহকর্মীরা।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে কর্মরত অবস্থায় কক্সবাজারে ৭২টি প্রকল্পে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি, রোহিঙ্গা নাগরিকদের ২০টি এনআইডি ও পাসপোর্ট জালিয়াতি, কর্ণফুলী গ্যাসে অনিয়মসহ বেশ কিছু দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মামলা করেন। এতে তিনি অনেকের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন। চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের পরিচালকসহ ইসির ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন শরীফ উদ্দিন। রোহিঙ্গা নাগরিকদের অবৈধ উপায়ে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদান ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণের ঘটনায় ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের রাসেলসহ ৬ জন, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল বালিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। একইভাবে অবৈধভাবে গ্যাসসংযোগ প্রদান করায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলামের (বিএসসি) বড় ছেলে আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সারওয়ার হোসেন, সাবেক ব্যবস্থাপক মো. মজিবুর রহমান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সার্ভেয়ার মো. দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন শরীফ উদ্দিন। এই মামলায় সারওয়ার, মজিবুর ও দিদারুলকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে সংলগ্ন কলাতলী বাইপাস রোড এলাকায় পিবিআই অফিস তৈরির জন্য এক একর জমি অধিগ্রহণে জালিয়াতি, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে খালাসি পদে ৮৬৩ জনকে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১ কোটি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপকসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন শরীফ উদ্দিন।
হঠাৎ করে শরীফকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। বদলি হলেও তার পরিবার চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি ছুটিতে পটুয়াখালী থেকে চট্টগ্রামে যেতেন। পটুয়াখালীতে বদলির পরও তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। হুমকি পেয়ে গত ৩০শে জানুয়ারি তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে শরীফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, ৩০শে জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই ব্যক্তি তার বাসায় এসে তাকে হুমকি দেন।