আইএসপিগুলো কি বেঁধে দেওয়া সময়ে সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছাতে পারবে?

লোকসমাজ ডেস্ক॥ আগামী চার বছরে দেশের লাইসেন্সধারী আইএসপিগুলোকে (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স) সারাদেশে ধাপে ধাপে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছাতে হবে। প্রথম বছরে ২৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ৫০ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ৭৫ শতাংশ এবং চতুর্থ বছরে ১০০ শতাংশ অঞ্চল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। ইন্টারনেট সেবাদাতাদের এই কার্যক্রমকে বলা হচ্ছে ‘রোল আউট অবলিগেশন’। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এটি সফল করতে না পারলে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। যদিও বিভিন্ন পেশিশক্তির প্রভাবে বেঁধে দেওয়া সময়ে পুরো কাজ সম্পন্ন করার ব্যাপারে শঙ্কায় আইএসপিগুলো।
২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর অনুমোদন পায় ‘আইএসপি রেগুলেটরি ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন’। এতে বলা হয়, আইএসপিগুলোকে সারাদেশে কয়েক ধাপে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে হবে। একইসঙ্গে আইএসপিগুলোকে নতুন নিয়মে রূপান্তর করতে ২০২১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় বিটিআরসি। পরে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।
আগে সারাদেশকে জোন হিসেবে ভাগ করে আইএসপি লাইসেন্স দেওয়া হতো। এরমধ্যে ছিল নেশনওয়াইড, জোনাল ও ক্যাটাগরি (এ, বি, সি)। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী তা চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে– নেশনওয়াইড, ডিভিশনাল, উপজেলা এবং থানা পর্যায়। অর্থাৎ জোনভিত্তিক হিসাব উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইন্টারনেট সেবাদাতারা স্থানীয়, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক পেশিশক্তির প্রভাবে রোলআউট বজায় রাখা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বাইরের কোনও উটকো প্রভাব না এলে তারা স্বাভাবিকভাবেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম। এজন্য তারা সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আইএসপিগুলোকে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। লাইসেন্স নবায়নের সময় দেখা হয়– তারা কতটুকু কাজ করলো, আগে কী অবস্থায় ছিল, এখন কী অবস্থায় আছে, আমরা যা ঠিক করে দিয়েছিলাম তা অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা সেসব। ফলে তারা রোলআউট অবলিগেশন ঠিকভাবে অনুসরণ করছে কিনা সেটা বোঝা যায়। এটি মেনে না চললে আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নেবো।’
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন‌্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে স্থানীয় পেশিশক্তি, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়েও জেলা প্রশাসকদের নজর রাখতে বলেন তিনি।
ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘সরকার শৃঙ্খলার জন্য রোলআউট অবলিগেশন রাখতে পারে। এটা আগেও ছিল, এখনও আছে। আমাদের পুরনো আইএসপি যেগুলো আছে বিশেষ করে নেশনওয়াইড আইএসপি, ডিভিশনাল আইএসপি; তারা প্রত্যেকেই রোলআউট অবলিগেশন বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে– রোল আউট অবলিগেশন মেনে প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্কটা নিয়ে যেন রাখতে পারি সেজন্য সরকার বা বিটিআরসি আমাদের সেই সহায়তা দেবে কিনা। স্থানীর পেশিশক্তির কারণে যেন আমাকে গুটিয়ে নিয়ে আসতে না হয়। অনেকে সেই জায়গায় সমস্যা দেখছে। প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক পেশিশক্তির কারণে রোলআউট অবলিগেশন বহাল রাখা যায় না।’
আইএসপিএবি’র সভাপতি যোগ করেন, ‘বিটিআরসিকে আমরা সারাক্ষণই বলছি– পেশিশক্তির কারণে আমরা অনেক জায়গায় যেতে পারি না। অনেক ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা পাচ্ছি। বিটিআরসির এনফোর্সমেন্টের জনস্বল্পতার কারণে তারা হয়তো সবসময় পারে না। আমরা আশা করছি, সবাই মিলে কাজ করলে উত্তরণের একটা উপায় খুঁজে বের করা যাবে।’

Lab Scan
ভাগ