যশোরে জিয়ার জন্মবার্ষিকীর আলোচনায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত: বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করেছিলেন জিয়াউর রহমান

মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোরে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করেছিলেন। আর বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সীমাহীন লুটপাট করে দেশকে ্ আবারও তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান ধূমকেতুর মত আবির্ভূত হয়ে দেশ ও জাতিকে আলোর পথ দেখিয়েছিলেন। আর এই কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠী দেশকে আবার গভীর সংকট ও অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে।
গতকাল বুধবার দলের প্রতিষ্ঠাতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, যেখানে রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ হয়েছেন সেখানে জিয়াউর রহমান সফল হয়েছেন। সেই ১৯৭১ সালে যখন অনেক রাজনীতিবিদ নিজের ও পরিবারের জীবন রক্ষার জন্যে জনগণকে বিপদে ফেলে এবং অভিভাবকশূন্য করে পার্শ্ববর্তী দেশে পালানোর চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন। তখন সাধারণ একজন মেজর হয়ে জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই বিদ্রোহের ফল হতে পারতো ফায়ারিং স্কোয়াডে নিশ্চিত মৃত্যু। এটা জেনেও নিজের ও পরিবারের সকলকে বিপদে ফেলে তিনি ক্ষ্যান্ত হননি। নিজের অস্ত্র কাঁধে নিয়ে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। যে রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের ও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নের কথা বলে সত্তুরের নির্বাচনে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার উপলক্ষ তৈরি করেছিল, পরবর্তীতে সেই দলের হাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হয়েছিল। পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রের দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশ ও জাতিকে বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দেন। তিনি শুধু জাতিকে মুক্ত করেননি, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর মধ্যেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলেন। সেদিন সিপাহী জনতা তাকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আনার পর তিনি বাংলাদেশকে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর দেশে পরিণত করেছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাক্ষর জ্ঞানের মাধ্যমে নারীদেরকে সচেতন করেছিলেন।


অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সেই মহান নেতার আদর্শ বুকে ধারন করে আমরা ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করি না। জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করি। কারণ, বিএনপির সাথে জনগণের ভাগ্য মিশে আছে। যে কারণে দলের চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থার মধ্যেও দেশ ও জনগণের স্বার্থে আপোষ করেননি। বেগম জিয়া সুস্থ হলে বাংলাদেশ সুস্থ হবে। তিনি মুক্ত হলে বাংলাদেশ মুক্ত হবে। আজ শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে শপথ নিতে হবে। যতদিন গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার মৌলিক অধিকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হবে, ততোদিন রাজপথ ছেড়ে যাবো না।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, নগর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম, য্গ্মু আহ্বায়ক মুনীর আহম্মেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রাশিদা রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ ইমরান প্রমুখ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল। এর আগে সকালে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একই স্থানে নগর যুবদলের আয়োজিত দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। বিকালে আলোচনা সভা ও সকালে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম রেজা দুলু, আলহাজ্ব মিজানুর রহমান খাঁন, একে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এহসানুল হক সেতু, খায়রুল বাশার শাহীন, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আজম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক রানা, যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুল, নগর যুবদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, সদস্য সচিব শেখ রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ।

Lab Scan
ভাগ