করোনা সংক্রমণের ‘রেড জোন’-এ যশোরসহ আরও ১০ জেলা#এক সপ্তাহে শনাক্ত বেড়েছে ২২৮ শতাংশ, মৃত্যু ১৮৫ শতাংশেরও বেশি

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণ বিবেচনায় ঢাকা ও রাঙ্গামাটির পর আরও ১০ জেলাকে ‘রেড জোন বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। লাল তালিকাভুক্ত নতুন জেলাগুলো হলো- যশোর, গাজীপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, বগুড়া, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, লালমনিরহাট, খাগড়াছড়ি ও পঞ্চগড়। করোনা সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় লাল তালিকাভুক্ত এই জেলাগুলোতে সংক্রমণের হার কমপক্ষে ১০ শতাংশ। এছাড়া হলুদ জোন বা মধ্যম ঝুঁকিতে রয়েছে ৩২ জেলা। আর গ্রিন বা সবুজ জোনে রয়েছে ১৬ জেলা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনে দেশজুড়ে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪০৫ জন, যা পূর্ববর্তী সাত দিনের (৩ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি) চেয়ে ২৩ হাজার ৯৩১ জন বেশি। এই সময়ে শতাংশ হিসেবে শনাক্ত বেড়েছে ২২৮ দশমিক ৪৮। এছাড়া ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জনের, যা পূর্ববর্তী সপ্তাহের (৩ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি) চেয়ে ৩৭ জন বেশি। এই সময়ে শতাংশ হিসেবে মৃত্যু বেড়েছে ১৮৫ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় করোনা সংক্রমণের হার ২৮ দশমিক ১১ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ আর রাজশাহীতে ১৪.৭৪ শতাংশ। এদিকে দেশে গত সাতদিনে করোনাভাইরাসে শনাক্ত বেড়েছে ২২৮ শতাংশের বেশি এবং ১৮৫ শতাংশেরও বেশি মৃত্যু বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গতকাল বুধবার দুপুরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে সংস্থাটির মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত সাত দিনে শনাক্ত হয়েছেন ৩৪ হাজার ৪০৫ জন, যা আগের সাত দিনের চেয়ে ২৩ হাজার ৯৩১ জন বেশি। শতকরা হিসেবে বিবেচনা করলে ২২৮ শতাংশেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৫৭ জন। পূর্ববর্তী সপ্তাহের চেয়ে ৩৭ জন বেশি। শতকরা হিসেবে মৃত্যু ১৮৫ শতাংশেরও বেশি। নাজমুল ইসলাম বলেন, এই ছোট পরিসংখ্যান আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, কী বেশি সংখ্যক রোগী বাড়ছে। ল্যাবরেটরিতে নমুনা সংগ্রহ আগের চেয়ে বেশি হচ্ছে এবং শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আশার কথা হলো, ৯৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, এটি স্বাভাবিক, যখন একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসে তখন পুরনো ভ্যারিয়েন্টকে বহুক্ষেত্রেই প্রতিস্থাপিত করে ফেলে এবং সে তার মূখ্য ভূমিকা পালন করে। এ যাবৎকালে আমরা যে পরিসংখ্যান দেখেছি, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মূলত ডেলটা ভ্যারিয়েন্টে মাধ্যমেই রোগীরা সংক্রমিত হচ্ছেন। গত বছর আমরা দেখেছি, ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের তা-ব কতটা ভয়াবহ হতে পারে। ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে যদিও, তাতে আমাদের আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই কোনো। আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই পরাক্রমশালী করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। এছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এ সময়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ জনের শরীরে। করোনাভাইরাস নিয়ে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৮৩০টি। শনাক্তের হার ২৫.১১ শতাংশ। আরো উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরো ৪৩৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ৮ জন, চট্টগ্রামে ২, রাজশাহী ও সিলেটে ১ জন করে। এর আগে মঙ্গলবার দেশে করোনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়। এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হন ৮ হাজার ৪০৭ জন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় সরকার। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

Lab Scan
ভাগ