আবরার হত্যা: জবানবন্দি পাল্টে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অভিযোগ

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় তিন সাক্ষির জবানবন্দি পাল্টে মোর্শেদ আমর্ত্য ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রবিউল ইসলাম। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতি এবং আইন সচিব বরাবর ডাকযোগে বিষয়টি জানিয়ে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। আগামিকাল বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বিষয়টি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর চিঠি দেবেন বলে জানান রবিউল ইসলাম।
অভিযোগে রবিউল ইসলাম উল্লেখ করেন, আবরার হত্যা মামলার ২২ নম্বর সাক্ষি মো. গালিব, ২৭ নম্বর সাক্ষি ওয়াহিদুর রহমান ও ২৮ নম্বর সাক্ষি মো. সাইফুল ইসলাম কোনো ধরনের ইনক্রিমিনেটিং এভিডেন্স তাদের সাক্ষ্যে বলেনি। তারপরও ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক তার ব্যক্তিগত স্বার্থে বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসত্যভাবে ইনক্রিমিনেটিং এভিডেন্স-এ সাক্ষিদের নাম রায়ে প্রতিস্থাপন করে মোর্শেদ অমর্ত্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। যা অত্র বিচারকের দেওয়া রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এছাড়াও তার ছেলে পিংকুর প্রতি অবিচার ও অন্যায় করা হয়েছে।
আবেদনে তিনি দাবি করেন, রায়ের পর প্রকাশিত জাবেদা নকলের সাথে সাক্ষি চলাকালীন প্রদত্ত জাবেদা নকলের বক্তব্যের কোনো মিল নাই। তাছাড়া এই তিনজন সাক্ষি কোনোভাবে জবানবন্দিতে বা জেরার সময় নিজেদেরকে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষি হিসেবে দাবি করেননি। অথচ রায়ের পরবর্তীতে পূর্বের তোলা জাবেদা নকলের সাথে পরবর্তীতে উত্তোলন করা জাবেদা নকল মিলিয়ে দেখা যায় উল্লেখিত তিনজন সাক্ষিকে প্রত্যক্ষদর্শী বা দেখা সাক্ষি করা হয়েছে। এই আবেদনের বিষয়ে নিশ্চিত করে আবেদনকারী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মামলার রায় প্রচার হওয়ার পূর্বের এবং পরে প্রদত্ত উল্লেখ্য তিন সাক্ষির জবানবন্দি ও জেরার জাবেদা নকলের কপি আমার কাছে আছে। আমরা পৃথক সময়ে উত্তোলনকৃত উভয় জবেদা নকলের কপি মিলিয়ে দেখে অবাক হয়েছি।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই যদি হয় ট্রাইব্যুনালের একজন সিনিয়র জজের অবস্থা, তাহলে কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবো? একজন মেধাবী ছাত্রকে মৃত্যুদণ্ড দিতে তিনজন সাক্ষির জবানবন্দি ও জেরা পরিবর্তন করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত।

Lab Scan
ভাগ