জনশক্তি রপ্তানি: সিন্ডিকেট ‘হাতিয়েছে’ কয়েক হাজার কোটি টাকা

লোকসমাজ ডেস্ক॥ গত তিন বছরে মালয়েশিয়ায় দুই লাখ ৭৫ হাজার শ্রমিক পাঠিয়েছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। এই তিন বছরে গুরুত্বপূর্ণ খাতটি থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ‘হাতিয়ে’ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্ট-বায়রা’র নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের জি টু জি প্লাস চুক্তির মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের আবির্ভাব। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তারা এই সেক্টর থেকে লুটে নিয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ভাড়াসহ রিক্রুটিং এজেন্সিকে ব্যবসা থেকে বঞ্চিত করেছে। বায়রা’র নেতাদের আরও অভিযোগ, এসময় সরকারের দেওয়া নির্ধারিত ফি থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিয়ে অভিবাসী কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যেতে বাধ্য করেছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। এছাড়া ওই সময় সিন্ডিকেটের সদস্যরা ১২ লাখ অভিবাসী কর্মীদের ভুয়া মেডিকেল করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বায়রা’র সভাপতি ড. মোহাম্মদ ফারুক। তিনি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ থাকে। এরপর ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর দেশটির সঙ্গে অভিবাসী কর্মী রপ্তানি নিয়ে আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চুক্তি হয়। এতে নতুন করে শ্রমবাজার তৈরি হয় দেশটির সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০১৬ সালে যেই সিন্ডিকেট চক্র মালয়েশিয়া অভিবাসী কর্মীদের অর্থ লুণ্ঠন করেছে, সেই চক্রটি কৌশলে নতুন চুক্তির সময় দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের ভুল তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের নির্বাচন করার ক্ষমতা মালয়েশিয়া সরকারের হাতে রাখার শর্তজুড়ে দেয়। এই শর্তের কারণে আবারও সিন্ডিকেট হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বৈধ লাইসেন্স ও বৈধ ব্যবসার কথা তুলে ধরে ড. মোহাম্মদ ফারুক বলেন, আমাদের দাবি খুবই সাধারণ। সব বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রপ্তানির সুযোগ দিতে হবে। বায়রা’র মহাসচিব মোস্তফা মাহমুদ বলেন, ২০১৯ সালের আইন অনুযায়ী আমাদের সরকার শ্রমিকদের লাইসেন্স দেবে। কিন্তু কারা ব্যবসা করবে সেটা ঠিক করবে মালয়েশিয়ার সরকার। আমি মনে করি এটা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। আমার দেশ থেকে কারা কাজ করবে সেটা নির্ধারণ করবো আমরা। মালয়েশিয়ান সরকার বা অন্য কোনো সরকার কেন করবে। বায়রা’র নেতারা জানান, ২৫টি এজেন্সি নিয়ে মূলত গঠন হয় একটি সিন্ডিকেট। ২০১৬ সালে যে ১০ জন মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ছিল এবারও তারাই জড়িত। সংবাদ সম্মেলনে বিমানের টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি বন্ধের দাবি জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বায়রা’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রিয়াজ উল ইসলাম, মহাসচিব মোস্তফা মাহমুদ, রিক্রুটিং এজেন্সি ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. টিপু সুলতান ও মহাসচিব আরিফুর রহমান প্রমুখ।