“বাঘ হাবিব” আতংকে সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটি

নজরুল ইসলাম আকন,শরণখোলা॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় ৭০ বাঘ হত্যার অভিযুক্ত বাঘ হাবিব জেল থেকে জাবিনে মুক্তি পাওয়ায় আতংকে রয়েছেন স্থানীয় সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটি ও পরিবেশ বাদী সংগঠনের ব্যক্তিরা। তাদের ধারণা হাবিব ওরফে বাঘ হাবিব আবারও সুন্দরবনে প্রবেশ করে বাঘ সহ বন্যপ্রানী শিকারে লিপ্ত হতে পারে। কিন্ত হাবিব জানায় তার বিরুদ্ধে ৭০ বাঘ হত্যার অভিযোগ ষড়যন্ত্র মূলক। এত বাঘ তিনি শিকার করেননি। তবে তার বিরুদ্ধে বন বিভাগের দায়ের করা ৮ টি মামলা রয়েছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ অফিসার মোঃ সামসুল আরেফিন জানান, হাবিব একজন বন্য প্রানী হত্যাকারী বনবিভাগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে ৭০ বাঘ হত্যার তথ্য তাদের কাছে নেই।
সরেজমিন জানাযায়, নাম তার হাবিব তালুদ্দার। কিন্ত সুন্দরবনে নিয়মিত বাঘ শিকারের কারনে সে স্থানীয়দের কাছে বাঘ হাবিব নামে পরিচিত। হাবিব শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন সোনাতলা গ্রামের কদম আলী তালুদ্দারের পুত্র। গত কয়েকমাস আগে হাবিবের নামে ৭০ বাঘ হত্যার অভিযোগ উঠে বিভিন্ন গনমাধ্যমে। জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের সুত্র ধরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে হাবিব তালুদ্দারের ৭০ বাঘ হত্যার কাহিনী। এদিকে বাঘ ও হরিণ শিকারের মামলায় হাবিব গত ৭ মাস জেল খেটে সম্প্রতি জাবিনে মুক্তি পায়। হাবিব মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরায় উৎকন্ঠা বেড়েছে টাইগার টীম সহ বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যদের মাঝে।তাদের ধারনা হাবিব আবারও বাঘ হত্যা করতে বনে প্রবেশ করতে পারে। তবে হাবিব তালুদ্দার ওরফে বাঘ হাবিব জানান, পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে ৭০ বাঘ হত্যার অভিযোগ ষড়যন্ত্র মূলক। তার বিরুদ্ধে ৭০ বাঘ হত্যার অভিযোগে তিনি নিজেই অবাক হয়েছেন। তার মতে সুন্দরবনে গিয়ে এত বাঘ মারা খুব সহজ কাজ নয়। প্রকৃত পক্ষে তার বিরুদ্ধে বন বিভাগের দায়ের করা ২ টি বাঘের চামড়া ও ৬ টি হরিণের চামড়া পাচারের মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি জাবিনে মুক্তি পেয়েছেন।
এলাকা বাসী জানান, হাবিব ছোট বেলা থেকে সুন্দরবনে মাছ শিকার করতো। পরে তার চোখ যায় বাঘ ও হরিণ শিকারের দিকে। বাঘ শিকারের কারনে মানুষ তার নাম দিয়াছে বাঘ হাবিব। সে হরিণও শিকার করে থাকে। তার বাবা কদম আলী তালুদ্দারও একসময় সুন্দরবনে অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত ছিলো। তবে কেউ কেউ বলছেন, ৭০ বাঘ হত্যা করা মুখের কথা নয়। তবে ৫/১০ টি বাঘ সে শিকার করে থাকতে পারে। কিন্তু এই বাঘ সে একাও শিকার করেনি। এর পিছনে গডফাদার রয়েছে। প্রশাসন এদের কেন চিন্হিত করেনা। গড ফাদারদের মুখোশ উল্টে দেয়া উচৎ। শরণখোলা বন রক্ষা বিষয়ক সিপিজির সদস্য খলিলুর রহমান জানান, হাবিব তার প্রতিবেশী সে তাদের কাছে ৩০/৪০ টি বাঘ শিকারের কথা বিভিন্ন সময় জানিয়েছে। সে প্রকৃত পক্ষে একজন বাঘ শিকারী।
বনরক্ষা বিষয়ক পিপলস ফোরামের স্থানীয় সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জোমাদ্দার জানান, শুনেছি বাঘ হাবিব প্রশাসনের কাছে আত্ম সমার্পন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। আসতে চাইলে তাকে সে সুযোগ দেয়া উচিৎ। সর্বশেষ হিসেবে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১১৪ টি। বাঘের সংখ্যা রক্ষা করতে হলে শিকারীদের যে কোন উপায় প্রতিহত করতে হবে। সিএমসির শরণখোলা উপজেলার সহ- সভাপতি ওয়াদুদ আকন জানান, হাবিব তালুদ্দার বন্যপ্রানী শিকারী। তার এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৫ টি মামলা রয়েছে বলে জানাগেছে।তবে তার বিরুদ্ধে ৭০ বাঘ হত্যার অভিযোগ অতিরঞ্জিত। এত বাঘ একার পক্ষে হত্যা করা সম্ভব নয়। শরণখোলা ষ্টেশন কর্মকর্তা মান্নান হোসেন জানান, হাবিবের নামে বনবিভাগে ৬ টি হরিন ও ২ টি বাঘ হত্যার মামলা রয়েছে। পুর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা সামসুল আরেফিন জানান, হাবিবের বিরুদ্ধে ৭০ বাঘ হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সে বন্যপ্রানী হত্যাকারী একজন দাগী আসামী। তাকে ক্ষমা করার কোন সুযোগ নেই।

Lab Scan
ভাগ