দুই শিক্ষার্থী ন্যায়বিচারবঞ্চিত হয়েছেন: রাষ্ট্রপক্ষ

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার রায়ে সব আসামি খালাস পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ রাষ্ট্রপক্ষ। এর ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচারবঞ্চিত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আফরোজা ফারহানা আহমেদ (অরেঞ্জ)। রায় প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে জাগো নিউজের কাছে এ কথা জানান আফরোজা ফারহানা আহমেদ (অরেঞ্জ)। তিনি বলেন, আদালতের রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। প্রকৃতপক্ষে দুই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ন্যায়বিচারবঞ্চিত হয়েছেন। যেহেতু আদালত আজকের রায়ে আসামিদের খালাস দিয়েছেন। এ মামলার রায় প্রকাশ হলে সেটা পর্যালোচনা করে আমরা আপিল করব। এর আগে দুপুরে রাজধানীর বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা কারেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, মামলার দুই ভিকটিম আগে থেকেই সেক্সুয়াল কাজে অভ্যস্ত। তারা স্বেচ্ছায় হোটেলে গিয়েছেন। সেখানে গিয়ে সুইমিং করেছেন। ঘটনার ৩৮ দিন পর তারা বললেন, ‘আমরা ধর্ষণের শিকার হয়েছি’। অহেতুক তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন। এতে আদালতের ৯৪ কার্যদিবস নষ্ট হয়েছে। এরপর থেকে পুলিশকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া এরপর থেকে ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর যদি কেউ মামলা করতে যায় তা না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামিরা বলেন, আদালতের মাধ্যমে সত্যের জয় হয়েছে। রায় শুনে কাঠগড়ায় থাকা পাঁচ আসামি আলহামদুলিল্লাহ বলেন। এরপর তারা বিচারককে উদ্দেশ করে হাত তুলে বলেন, আসসালামু আলাইকুম। এ মামলার আসামিরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন এবং নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিম।