‘কোন বাস সিএনজিচালিত যাত্রীরা বুঝবে কিভাবে?’

লোকসমাজ ডেস্ক॥ রাজধানীর গণপরিবহনের একটি বিরাট অংশ সিএনজিচালিত। এসব গণপরিবহনও বর্ধিত ভাড়া আদায় করছে। অথচ সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকায়। গতকালই সরকারের একজন মন্ত্রী বললেন, সিএনজিচালিত বাসের ভাড়া বাড়বে না। কোন বাস ডিজেলচালিত, কোন বাস সিএনজিচালিত- এটা যাত্রীরা বুঝবে কিভাবে? গণপরিবহনের গায়ে কি লেখা থাকবে? নাকি গাড়িতে ওঠার আগে যাত্রীদের নিজ দায়িত্বে গাড়ির নিচে তাকিয়ে সিলিন্ডার দেখে নিতে হবে? সোমবার (৮ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির নেতারা বলেন, সরকার ডিজেল এবং কেরোসিনের মূল্য ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি করলে পরিবহন শ্রমিকরা তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদের নামে ধর্মঘট শুরু করলেও সেটা ছিল মূলত তাদের ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট। গতকাল তারা সরকারের সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর বিষয়ে আলোচনা করেননি, করেছেন ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে আলোচনা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সিএনজির মূল্য বৃদ্ধি না হলেও সিএনজিচালিত গণপরিবহনের মালিক-শ্রমিকরাও ধর্মঘট করেছেন। সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করেনি। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে গণ পরিবহনের ভাড়া ২৭ শতাংশ, নৌ-পরিবহনের ভাড়া ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নেতারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ দুর্বিসহ অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। অতিমারীতে কয়েক লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। দেশে নতুন করে ৩ কোটি ২৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়েছে। এই চরম দুর্দিনে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির ফলে দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য আরেক দফা বৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার সবক্ষেত্রে ব্যয় বেড়ে যাবে, যা নতুন সংকট তৈরি করবে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নেতারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আর্থিক দুরবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে জ্বালানিতে ভর্তুকি দিয়ে হলেও গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।