১ কেটি ৮০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাগজে আছে বাস্তবে নেই

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা॥॥ কুষ্টিয়া জেলার পর্যটন ও দর্শনীয় স্থানের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি ক্রয়নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে গণপূর্ত বিভাগ ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান জেলা প্রশাসক সায়েদুল ইসলাম জানান, তদন্ত রিপোর্ট পেলেই জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৮ সালের জুনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) কর্তৃক দুইটি সরকারি আদেশের অনুকূলে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় পর্যটকদের কাছে জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানকে আকর্ষণীয় করে তুলতে। জেলার দৌলতপুর, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলায় ৯০ লাখ টাকা এবং শিলাইদহ কুঠিবাড়ি সংলগ্ন পদ্মার পাড়সহ মূল চত্বরের উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৩ জুন শিলাইদহ কুঠিবাড়ি কেন্দ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাগজে-কলমে ৬৯ লাখ ১৬ হাজার ৯১২ টাকা ব্যয় ধরে একটি প্যাকেজ প্রকল্পের দরপত্র সম্পন্ন করেন জেলা প্রশাসক। অভিযোগ উঠেছে, এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি ক্রয়নীতির সরাসরি লঙ্ঘন করে এ খাতে বরাদ্দকৃত সিংহভাগ টাকা তছরুপ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন কর্তৃক সংঘটিত অনিয়মের সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগ ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে ঘটেছে এসব দুর্নীতির ঘটনা। কুষ্টিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু বলেন, সরকারের উচিত সরকারি দপ্তরগুলিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তা না হলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ দীর্ঘতর হবে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সদস্য হাজি গোলাম মহসিন বলেন, জেলা প্রশাসনের এমন অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় শিলাইদহ ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন তারেক বলেন, বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড কর্তৃক বরাদ্দকৃত ৯০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের অর্ধেক কাজ হয়েছে। এখন শোনা যাচ্ছে ঠিকাদার কাজ চূড়ান্ত বিল দাখিল করেছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।
শিলাইদহ কুঠিবাড়ী চত্বরে প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্মাণকারী ঠিকাদার সামিউল আজম দিপু বলেন, এখানে যা কিছু হয়েছে সবই জেলা প্রশাসনের সরাসরি দেখভালে হয়েছে। কারো কিছু জানা বা বলার থাকলে তা সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গেই কথা বলতে হবে।
৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজে চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদারের অভিযোগ, এ কাজ করতে এসে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। দরপত্রে উল্লেখিত তালিকার মধ্যে ওয়াটার রিজার্ভার, ডিপ টিউবওয়েল এবং পাম্প মটর (যার চুক্তিমূল্য ছিল ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫১০ টাকা) ছাড়া অন্য কাজগুলি সংযোজন বা পরিবর্তন যা কিছুই হয়েছে তা জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে চলমান বিল হিসেবে ১৫ লাখ করে পৃথক দুটি বিলে ৩০ লাখ টাকা পেয়েছেন, এখনো বিল বাকি আছে ৩৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া এ প্যাকেজে বরাদ্দকৃত মোট ৯০ লাখ টাকার মধ্যে বাকি ২১ লাখ টাকা কোন খাতে ব্যয় হয়েছে সেটা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ কুষ্টিয়ার সংশ্লিষ্ট উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, শিলাইদহ কুঠিবাড়ী উন্নয়ন প্রকল্প তালিকায় উল্লেখিত ওয়াশ ব্লক, ওয়াটার রিজার্ভার, ডিপ টিউবওয়েল, পাম্প মোটর, আরসিসি রোড, সাইট ডেভেলপমেন্ট এবং বেঞ্চসহ ছাতা নির্মাণাধীন ছিল তার সবগুলি আইটেম নির্ধারিত মান বজায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওয়াটার রিজার্ভার, ডিপ টিউবওয়েল, পাম্প মোটর এই প্রকল্পের আগেই নির্মাণ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসক সাইদুল ইসলাম বিস্তারিত কথা বলতে রাজ হননি। তবে তিনি জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তদন্ত রিপোর্ট পেলেই জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।