পাথরের ট্রাকে কড়াকড়ি, বেনাপোলে আমদানি বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার॥ স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে বেনাপোল বন্দরে পাথর বোঝাই ট্রাক ঢোকায় কড়াকড়ি আরোপ করায় আদমানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় বন্দরের ব্যবসায়ীরা।
শনিবার সকাল থেকে ভারতীয় পাথরের ট্রাক সীমিত সংখ্যায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় পেট্রাপোল বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক সমিতি এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
তবে নতুন পণ্য আসা-যাওয়া বন্ধ থাকলেও চেকপোস্ট কার্গো শাখায় অন্যান্য আমদানি-রপ্তানি পণ্যের গেটপাস (আইজিএম) চলছে।
বেনাপোল শুল্কভবনের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম বলেন, “সীমান্তে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। প্রতিদিন আক্রান্তের হারও বাড়ছে। এ অবস্থায় বন্দরের বাইরে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লোকালয়ে ভারতীয় ট্রাক চালকরা পাথর খালি করায় এ ঝুঁকি আরও বাড়ছিল। ফলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এ বন্দর দিয়ে আপাতত পাথরবাহী ট্রাক সীমিত আকারে আমদানির কথা বলা হচ্ছে।”
এর আগেও ২২ জুন একই দাবিতে ভারতীয় বন্দর ব্যবহারকারীরা আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখে। পরে প্রতিদিন ৩০টি করে পাথরের ট্রাক গ্রহণ করা হবে সিদ্ধান্ত হলে ফের আমদানি-রপ্তানি চালু হয়। তারপরও তারা ‘কথায় কথায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় বেনাপোলের বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে’।
আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচলের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, ভারত থেকে যে পাথরের ট্রাক আসে সেগুলি বন্দরের বাইরে আনলোড হতো। এ সময় ভারতীয় ট্রাক চালক ও তাদের সহযোগীরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঘুরে বেড়ায়।
তাদের মাধ্যমে রোনাভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কায় এলাকাবাসীর অভিযোগে বেনাপোল বন্দরে পাথরের ট্রাক প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলেন তিনি।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বলেন, বন্দরে প্রতিদিন দেড়শ’ থেকে দুইশ’ ট্রাক পাথর রাখার জায়গা নাই। এসব পাথর বন্দরে নামালে অন্য মালামাল ওঠা-নামানোই বিঘœ ঘটবে।
জায়গা সংকটের কারণে ভারত থেকে আমদানি করা পাথর বন্দর এলাকার পাশে আমদানিকারকের জায়গায় আনলোড করা হচ্ছিল। সংক্রমণের শঙ্কায় বন্দর এলাকা থেকে এসব ট্রাক বাংলাদেশি চালকরা নিয়ে আমদানিকারকের জায়গায় আনলোড করবে এ শর্তে পাথর আমদানি শুরু হয়। এ কারণে ভারতীয় ব্যসায়ীরা আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রেখেছে বলেন তিনি।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, সংক্রমণের এ সময় বন্দরের বাইরে কোনো পাথর রাখা যাবে না। বন্দর কর্তৃপক্ষ পাথর রাখার জায়গা তৈরি করে পাথর আমদানি করতে হবে।
পাথর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রুপালী এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি রাজিব হোসেন বলেন, পদ্মা সেতুর কাজে এ পাথর ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরে পাথর খালাস করতে দিচ্ছে না, আবার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পাথর আমদানি সীমিত করে আনার প্রতিবাদে ভারতীয় বন্দর ব্যবহারকারীরা আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।
তাদের দাবি ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে ‘প্রায় ৮শ’ পাথর বোঝাই ট্রাক আটকা পড়ে রয়েছে’।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, প্রতিবছর এ বন্দর থেকে সরকার প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় মারাত্মকভাবে বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।
কখনো জায়গার অভাবে বাণিজ্য বন্ধ আবার কখনো আকাশের নিচে পণ্য রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে পণ্যের মান নষ্ট হচ্ছে। ফলে গত ৪ বছর ধরে এ বন্দরে আমদানি পণ্য থেকে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না বলেন তিনি।

Lab Scan
ভাগ