বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানোর শীর্ষে লুব রেফ

লোকসমাজ ডেস্ক॥শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার দ্বিতীয় সপ্তাহেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানোর শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে লুব রেফ বাংলাদেশ। বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় সপ্তাজুড়েই দাম কমেছে। এতে গেল সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমার শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া ‘বিএনও’ ব্র্যান্ডের লুব রেফ’র শেয়ার গত ৯ মার্চ থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন হচ্ছে।
লেনদেন শুরুর তৃতীয় কার্যদিবসেই কোম্পানিটির শেয়ার ভিন্ন রকম ইতিহাস সৃষ্টি করে। প্রথম দুই কার্যদিবস দাম বাড়লেও তৃতীয় কার্যাদিবসে এসে পতনের মধ্যে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। সেই সঙ্গে কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন বিনিয়োকারীরা। ফলে তৃতীয় কার্যদিবসেই কোম্পানিটির ৭৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এর আগে লেনদেনের তৃতীয় দিনে আর কোন কোম্পানির এতো টাকার শেয়ার লেনদেন হয়নি।
সাধারণত লেনদেনের প্রথমদিকে দাম বাড়ার প্রবণতা বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীরা আইপিওতে পাওয়া শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রাখেনন। কিন্তু লুব রেফের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্রি দেখ যায়।
অবশ্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে শেয়ার ছাড়ার আগে কোম্পানিটির বিডিং নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। যে কারণে কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণ সংক্রান্ত বিডিংয়ে অতিরিক্ত দাম প্রস্তাব করা যোগ্য বিনয়োগকারীদের তলব করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তাদের শাস্তির আওতায় আনে।
লেনদেনের তৃতীয় কার্যদিবসে পতনের মধ্যে পড়া কোম্পানিটির শেয়ার দামে গত সপ্তাহজুড়ে বড় পতন হয়েছে। গেল সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দাম কমেছে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ। আর টাকার অঙ্কে কমেছে ১১ টাকা ৬০ পয়সা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ৫৪ টাকা ৭০ পয়সা।
ব্যবসা সম্প্রসারণ (নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় ও প্রতিস্থাপন), ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ মেটাতে কোম্পানিটিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করার অনুমোদন দেয় বিএসইসি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিয়ে গত ২৬ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আইপিওতে আবেদন গ্রহণ করে। তার আগে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বিডিং সম্পন্ন করে কোম্পানিটি।
বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা কাট অফ প্রাসই নির্ধারণ করেন ৩০ টাকা। অবশ্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা দিয়ে কোম্পানিটির শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেয়া হয় বিডিংয়ে।
অতিরিক্ত দাম প্রস্তাব করায় যেসব যোগ্য বিনিয়োগকারী কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে ৫০ টাকার ওপরে দর প্রস্তাব করেছেন তাদেরকে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য তলব করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এরপর এসব যোগ্য বিনিয়োগকারীদের শাস্তি হিসেবে একটি আইপিও আবেদনে নিষিদ্ধ করা হয়।
লুব রেফ’র পরেই গত সপ্তাহে দাম কমার শীর্ষ তালিকায় রয়েছে ন্যাশনাল ফিড। সপ্তাহজুড়ে এই কোম্পানিটির শেয়ার দাম কমেছে ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ দাম কামার মাধ্যমে পরের স্থানে রয়েছে রিপাবলিক ইনস্যুরেন্স।
এছাড়া গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানোর শীর্ষ তালিকায় থাকা- পিপলস ইনস্যুরেন্সের ১২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, নর্দান ইসলামী ইনস্যুরেন্সের ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেনের ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের ১১ দশমিক ৫২ শতংশ, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং ইসলামী ইনস্যুরেন্স বাংলাদেশের ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ দাম কমেছে।