ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী খাবারের দাম সাত বছরে সর্বোচ্চে

লোকসমাজ ডেস্ক॥করোনাভাইরাস মহামারী মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। মানুষের আয় কমেছে। বিপরীতে ব্যয় রীতিমতো বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। কারণ নয় মাস ধরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফেব্রুয়ারিতেও বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক আগের মাসের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, ২০১৪ সালের জুলাইয়ের পর যা সর্বোচ্চ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মাসভিত্তিক ফুড প্রাইস ইনডেক্সের (এফএফপিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।
খাদ্যশস্য, তেলবীজ, দুগ্ধপণ্য, মাংস, চিনির বাজারমূল্য হিসাব করে মাসভিত্তিক এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এফএফপিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক ১১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ১১৩ দশমিক ২ পয়েন্ট। আর আগের বছরের জানুয়ারিতে ছিল ১১৩ দশমিক ৩ পয়েন্ট। মূলত চিনি ও ভোজ্যতেলের লাগামহীন দরবৃদ্ধিতে খাদ্যপণ্যের গড় মূল্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে মোটা দানাদার শস্য ও জোয়ারের দাম আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৮২ দশমিক ১ শতাংশ।
মূলত চীনে খাদ্যশস্যের ব্যাপক চাহিদা বাজার চাঙ্গা করতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
রোমভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে বিশ্বব্যাপী ভুট্টা ও চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এ সময়ে গমের রফতানি মূল্য স্থিতিশীল ছিল। তবে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় এ সময়ে চিনির দাম বেশ বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যপণ্যটির দাম আগের মাসের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মূলত ২০২০-২১ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী চিনির অন্যতম সরবরাহ দেশগুলোতে উত্পাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা ও এশিয়ার বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পণ্যটির দাম বেড়েছে।
বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের মূল্য বাড়াতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে ভোজ্যতেল। ফেব্রুয়ারিতে পণ্যটির মূল্যসূচক বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০১২ সালের পর সর্বোচ্চ। আর এ মাসে ভোজ্যতেলের বাজারে সবচেয়ে বেশি হিস্যা থাকা পাম অয়েলের দাম নয় মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছে। মূলত ভোজ্যতেলটির শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পণ্যটির মজুদ কমে আসার আশঙ্কায় দামে বেশ উল্লম্ফন হয়। আর গত মাসে দুগ্ধপণ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
খাদ্যপণ্যের মূল্যের পাশাপাশি উত্পাদনের চিত্রও উঠে এসেছে এফএফপিআইয়ের প্রতিবেদনে। এফএও বলছে, চলতি সরবরাহ মৌসুমে খাদ্যশস্যের উত্পাদন দাঁড়াতে পারে ২৭৬ কোটি ১০ লাখ টনে, যেখানে আগের প্রাক্কলন ছিল ২৭৪ কোটি ৪০ লাখ টন। সেই হিসাবে আগের প্রাক্কলনের তুলনায় খাদ্যশস্য উত্পাদন ১ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়তে পারে।
উত্পাদন বৃদ্ধির এ প্রাক্কলিত তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যশস্যের মধ্যে কেবল গম উত্পাদন বাড়বে ৭৫ লাখ টন। মূলত অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কাজাখস্তান ও রাশিয়ায় খাদ্যশস্যটির উত্পাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাসই প্রাক্কলন বাড়াতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। আর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাল উত্পাদন ২৬ লাখ টন বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও। এক্ষেত্রে ভারতের উত্পাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রাক্কলন পাল্টাতে ভূমিকা রেখেছে।
উত্পাদন ও দামের পাশাপাশি খাদ্যপণ্য মজুদের চিত্রও উঠে এসেছে এফএফপিআইয়ের এ প্রতিবেদনে। প্রাক্কলনে বলা হচ্ছে, চলতি বছর শেষে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের মজুদ ৯০ লাখ টন বেড়ে ৮১ কোটি ১০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে।