আদালতে স্বীকারোক্তি : অভয়নগরে মামুন হত্যার প্রতিশোধ নিতে মেম্বার নুর আলীকে হত্যা করেন দুর্বৃত্তরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রায় তিন মাস আগে যশোরের অভয়নগরের শুভরাড়া গ্রামে আল মামুন নামে এক ব্যক্তি প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছিলেন। এরই প্রতিশোধ হিসেবে গুলি চালিয়ে ইউপি মেম্বার নুর আলী শেখকে হত্যা করা হয়। মিজানুর রহমান আকুঞ্জী ও আরমান নামে দুই দুর্বৃত্ত তাকে গুলি করেন। মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর এমনই তথ্য পেয়েছে পুলিশ। অপরদিকে ইউপি মেম্বার নুর আলী শেখ হত্যার ঘটনায় র‌্যাবের হাতে আটক মিজানুর রহমান আকুঞ্জীসহ ৩ দুর্বৃত্তকে গতকাল রোববার আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মারুফ আহমেদ তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভয়নগর থানা পুলিশের এসআই ইকবাল মাহমুদ জানান, তিন মাস আগে শুভরাড়া গ্রামের আল মামুন নামে এক ব্যক্তি দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন। এই হত্যাকান্ডে ইউপি মেম্বার নুর আলী শেখের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন নিহতের স্বজনেরা। এজন্য প্রতিশোধ নিতে নুর আলী শেখকে হত্যা করা হয়। আল মামুনের ভাই আরমান ও চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান আকুঞ্জী গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করেন। মিজানুর রহমান আকুঞ্জী রানাগাতি গ্রামের আবছার আকুঞ্জীর ছেলে এবং আরমানের বাড়ি শুভরাড়া গ্রামে। এর মধ্যে শ্যুটার মিজানুর রহমান আকুঞ্জী র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন। অপর অভিযুক্ত শ্যুটার আরমানকে তারা (পুলিশ) আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ জানায়, হত্যা মিশনে অংশ নেয়া আটক মিজানুর রহমান আকুঞ্জী, সোহাগ গাজী ও মিজান গাজীকে গতকাল আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার রানাগাতি গ্রাম থেকে অস্ত্রসহ তাদের আটক করে র‌্যাব। উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ রাতে অভয়নগর উপজেলার বাবুরহাট বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন শুভরাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নুর আলী শেখ। এ সময় পিতাকে রক্ষা করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন ছেলে ইব্রাহিম।

Lab Scan
ভাগ