যশোরের খোলাডাঙ্গায় খুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গতকাল বুধবার সকালে যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা মুন্সীপাড়ার একটি ধানক্ষেত থেকে বাচ্চু গাজী (৩৪) নামে একজন লেদমিস্ত্রির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি চাকু এবং দুই জোড়া স্যান্ডেল ও একটি লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়। তবে কে বা কারা কী জন্য তাকে হত্যা করেছে তা জানতে পারেনি পুলিশ।
কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই আ ফ ম মনিরুজ্জামান জানান, নিহত বাচ্চু গাজী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম গাজীর ছেলে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন খোলাডাঙ্গা মুন্সীপাড়ার জনৈক আশরাফ আলীর ধানক্ষেতে তার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাচ্চু গাজীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলের কিছুদূর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি ছুরি, দুই জোড়া স্যান্ডেল, একটি লুঙ্গি ও নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধা করা হয়। তিনি জানান, নিহতের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাকু দিয়ে আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ধান ক্ষেতের পাশের রাস্তায় এলাকার মানুষ কান্নার চিৎকার শুনতে পেয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি কেউ পুলিশকে সেই সময় জানায়নি। পরদিন ধানক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধারের পর রাস্তার বেশকিছু স্থানে রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ কারণে ধারনা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করলে বাচ্চু গাজী প্রাণ বাঁচাতে রাস্তায় দৌঁড়াদৌড়ি করেছেন এবং এক পর্যায়ে ধানক্ষেতে গিয়ে পড়লে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই সোহাগ জানান, তারা ৪ ভাই। বাচ্চু গাজী সকলের বড়। তিনি মুড়লি মোড়ের জনৈক নিমাজের লেদ কারখানায় কাজ করতেন। শংকরপুর সন্ন্যাসীদিঘির পাড়ের বিপরীতে চাকলাদার পাম্পের পেছনে তার শ্বশুর লিয়াকতের বাড়ি। সেখানেই থাকতেন তার ভাই। গত মঙ্গলবার রাতে দুই ব্যক্তি তার ভাইকে ডেকে নিয়ে যায় বলে জানতে পেরেছেন। এরপর বুধবার সকালে তার ভাই খুন হওয়ার সংবাদ পান। তবে কী কারণে তারা তার ভাইকে হত্যা করেছে তা তিনি জানেন না। নিহতের চাচা রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তিনি শংকরপুর সন্ন্যাসীদিঘির পাড় হয়ে ভ্যানে করে যাওয়ার সময় সেখানে রাস্তার পাশে ভাইপো বাচ্চুকে বসে থাকতে দেখেন। সেখানে বাচ্চু সাথে খরিচাডাঙ্গা গ্রামের মহরম আলীর ছেলে ইমরানসহ আরো এক যুবক ছিলো। ভাইপো দেখতে পেয়ে তিনি তাকে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যেতে বলেন। জবাবে বাচ্চু তাকে বলেছিলো, কাস্টমসে গাড়ি ধরেছে। সেখানে যাচ্ছে সে। এর পরদিন বাচ্চু খুনের খবর পান। তিনি আরো জানান, বাচ্চু মনিরামপুর থানার একটি হত্যা মামলার আসামি। ইমরানও একই মামলার আসামি। তার ধারনা, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে ইমরান এবং অজ্ঞাত ওই যুবক জড়িত। তবে কী কারণে বাচ্চুকে হত্যা করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। পুলিশ জানায়, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের পর বাচ্চু গাজীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।