চৌগাছায় স্কুলের নির্মাণাধীন মার্কেটটি এখন ময়লার ভাগাড় ও মাদকসেবীদের আখড়া

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছার সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমিতে ছয় বছর আগে মার্কেট নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও তা আজও শেষ হয়নি। ফলে অবকাঠামোটি এখন নষ্ট হবার উপক্রম। এ অবস্থায় নির্মিয়মান ভবনের কাঠামো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এছাড়া মাদকসেবীরা সেখানে আস্তানা গেড়েছে।  ঐতিহ্যবাহী সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এ জনপদের গৌরব আর অহংকারের একটি প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান। ১৯২৯ সালে শিক্ষানুরাগীরা ১২ দশমিক ৭৪ একর জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। যার প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন দ্বীন আলী।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে চৌগাছা-মহেশপুর সড়ক ঘেঁষে একটি মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল পরিচালনা পরিষদ। একাধিক দোকান ঘর তৈরির জন্য বেশ জোরেশোরে কাজ শুরু হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান সর্বস্তরের মানুষ। মাটি ভরাট ও অবকাঠামো দাঁড় করাতে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করে কর্তৃপক্ষ। এরপর হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৬ বছর গড়িয়ে গেল কিন্তু আজো মার্কেটটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টি সরকারি হয়। বাতিল হয়ে যায় বিগত পরিচালনা পরিষদ। বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন জেলা প্রশাসক।
স্থানীয়রা জানান, মার্কেটের কাজ শেষ না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এখন পরিত্যক্ত স্থান হিসেবে পরিণত হয়েছে। অসাধু ব্যক্তি সেখানে তৈরি করেছে ময়লার ভাঁগাড়। ফলে জন্ম নিচ্ছে মশা মাছি, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ওই এলাকাতে নানা অপরাধীদের আনা গোনা লক্ষ্যণীয়। মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।
স্থানীয় রহমত আলী, তোরাব আলী, সুলতান আহমদ, মহর আলী, হযরত আলীসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যালয়ের জমিতে তারা বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করে আসছেন। ব্রিজ ও স্বাধীনতা ভাস্কর্য নির্মাণের কারণে বেশ কিছু ব্যবসায়ীর দোকান ভেঙে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করলে ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও মার্কেটটি নির্মাণ হয়নি। এর ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান। মার্কেটটি দ্রুত নির্মাণের দাবি করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, মার্কেট নির্মাণে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। অর্থের অভাবে কাজ বন্ধ থাকলেও বর্তমান সভাপতির সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, খুব দ্রুতই একটি সিদ্ধান্ত হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী মো. এনামুল হক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে আমি জেনেছি। যেহেতু বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয়েছে। সে কারণে স্থাপনাটি শেষ করার জন্য দ্রুত আমি লিখিতভাবে জানাবো।’