দুর্ঘটনায় শিশু আহতঃ চিকিৎসা নিয়ে দিশেহারা ভ্যানচালক পিতা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গোলাম রসুল নামে সাড়ে ৫ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। যশোর মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শরীফুজ্জামান রঞ্জু তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
গোলাম রসুল যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার তেলিধান্যপাড়া গ্রামের ভ্যান চালক কালাম শেখের ছেলে। তার মা সরূপজান বেগম ৩ কন্যা ও ১ ছেলে গোলাম রসুলকে রেখে দু’বছর আগে মারা গেছেন। ৪ ছেলে-মেয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। সাড়ে ৩ বছর বয়সে মা হারিয়ে গোলাম রসুল পিতৃস্নেহে পালিত হচ্ছেন। ছেলে-মেয়েদের মুখের খাবার যোগাতে পিতা কালাম শেষের ব্যস্ত থাকতে হয়। শিশু গোলাম রসুল গতকাল দুপুরে বাড়ির সামনে রাস্তায়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল দ্রুত এসে গোলাম রসুলকে ধাক্কা দেয়। এতে সে রাস্তার ওপর পড়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করার পর যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু কোন চেতনা ফিরে আসেনি তার হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। অবস্থা বেগতিক দেখে ইন্টার্নি চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ছাড়পত্র দিয়েছেন।
পরবর্তীতে শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ শরীফুজ্জামান রঞ্জু খান রোগীর কাছে। তিনি সাময়িকভাবে ছাড়পত্র স্থগিত করে মাতৃহারা শিশু গোলাম রসুলকে একদিনের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং বলেন গরিব মানুষ। বাইরে যেতে তাদের অনেক টাকা ব্যয় হবে। তাই, আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তাকে ভাল চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার উন্নতি ঘটানোর জন্য এ জন্য অন্তত একদিন এ হাসপাতালের রেখে পর্যবেক্ষণ করছি। দেখা যাক কি হয় ? বাদবাকি উপর ওয়ালার মর্জি। এদিকে গোলাম রসুলের প্রতিবেশী সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ছেলেটি বড় অসহায়। পিতা ভ্যানচালক। সন্তানের চিকিৎসা করানোর মতো তার অর্থ নেই।

Lab Scan
ভাগ