আলোচিত যুবলীগ কর্মী সোহাগ হত্যার দুই বছর পার, হুমকিতে মামলার বাদী আতঙ্কে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার আলোচিত যুবলীগ কর্মী শরিফুল ইসলাম সোহাগ হত্যাকা-ের ২ বছর পার হতে চলেছে। কিন্তু হত্যাকা-ে প্রধান অভিযুক্ত ইয়াছিন মোহাম্মদ কাজলসহ আরও কয়েকজন আসামি আজও আটক হয়নি। অপরদিকে মামলার অন্যতম আসামি জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে বাদী ফেরদাউস হোসেন সোমরাজকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে চলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বাদী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে যুবলীগ কর্মী শরিফুল ইসলাম সোহাগ ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিজ বাড়ির কাছে খুন হন। নানা কারণে বিরোধের সৃষ্টি হওয়ায় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার পর পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই ফেরদাউস হোসেন সোমরাজ কিলার হিসেবে আলোচিত ইয়াছিন মোহাম্মদ কাজলসহ কয়েকজনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ডিবি পুলিশের তৎকালীন ওসি মারুফ আহমদ। তদন্তকালে ডিবি পুলিশের হাতে আটক লিটন নামে এক আসামির আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রকাশ পায় যে, জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলনের পরিকল্পনায় এবং তিনি ঘটনাস্থলে গাড়িতে বসে থেকে সোহাগকে হত্যা করান। এ বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর সর্বত্র তোলপাড় হয়। পরে ডিবি পুলিশ তাকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আটকও করে। এরপর তদন্ত শেষে গত ২০ জুলাই ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযুক্তরা হচ্ছেন-ইয়াছিন মোহাম্মদ কাজল, ইসতিয়াক আলী টিপু, সাগর, তরুন, আল-আমিন, ডাবলু, এস এম মহিউদ্দিন আসিফ, এফ বি আশিকিন জামান ওরফে আকাশ, জাহিদ হোসেন মিলন, লিটন ও তৌহিদুর রহমান ফন্টু চাকলাদার।
মামলার বাদী ফেরদাউস হোসেন সোমরাজের অভিযোগ, ইয়াছিন মোহাম্মদ কাজলসহ কয়েকজন আসামি এখনো আটক হয়নি। এছাড়া আরেক আসামি জাহিদ হোসেন মিলন কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি দিয়ে চলেছেন। ফলে তিনি ঠিকমতো ঠিকাদারি ব্যবসা করতে পারছেন না, আতঙ্কের মধ্যে আছেন। তিনি জানান, তার ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার তারা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন।

Lab Scan
ভাগ