‘৬ সপ্তাহে করোনা নির্মূলের কিট’ আবিষ্কারের দাবি

লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ‘কোভিক কিট’ আবিষ্কারের দাবি করেছেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গবেষকরা। তাদের দাবি, এ কিট ব্যবহারে ছয় সপ্তাহের মধ্যে দেশ থেকে করোনা নির্মূল সম্ভব। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তি কোভিক কিট ব্যবহার করলে কোনো সুস্থ লোক রোগীর সংস্পর্শে এলেও করোনায় আক্রান্ত হবে না।
এরই মধ্যে অনুমোদনের জন্য কোভিক কিট বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে (বিএমআরসি) পাঠানো হয়েছে। মান নিয়ন্ত্রকদের পরীক্ষায় এটি উত্তীর্ণ হলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে এর সরকারি অনুমোদন দ্রুত দেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র মতে, করোনার এ মহামারি রোধে বিগত দুই মাসের গবেষণা করছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শের-মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. এইচ এম মাসুম বিল্লাহ, তার সহযোগী ডাক্তার উম্মে তাহেরা ইলা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রেহানা পারভীন। তারা ইতোমধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণে কোভিক কিট তৈরি করেছেন বলে দাবি করেছেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়ন ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রেহানা পারভীন বলেন, আমারা বিগত দুই মাস ধরে কোভিট-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ এবং এ ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করেছি। গবেষণায় আমরা একটি কিট আবিষ্কার করেছি।
আক্রান্ত ব্যক্তি কোভিক কিট ব্যবহার করলে কোনো সুস্থ ব্যক্তি রোগীর সংস্পর্শে গেলেও করোনায় আক্রান্ত হবে না বলে দাবি তার। কোভিক কিট প্রধান আবিষ্কারক শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. এইচ এম মাসুম বিল্লাহ জানান, কোভিক কিটটি আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একটি ভেন্টিলেশন মাস্ক ও টিউবের মাধ্যমে সংযোগ থাকবে। এটি দিয়ে নির্গত নিঃশ্বাসের জীবাণু ডিভাইসটির মাধ্যমে ৯৯.৫ শতাংশ মুক্ত হয়ে যাবে। গত ১২ মে অনুমোদনের জন্য কোভিক কিট বিএমআরসি-তে পাঠানো হয়েছে। আশাকরি এটি আনুমোদন পেলে ছয় সপ্তাহের মধ্যে দেশ থেকে করোনা নির্মূল সম্ভব।
বিষয়টি চিকিৎসকদের মধ্যে আশা দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন।
তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের অনেক আক্রান্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী মুক্ত হয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে দেশ থেকে দ্রুততার সঙ্গে করোনা মুক্ত করতে পারবে।
মান নিয়ন্ত্রকদের পরীক্ষায় এটি উত্তীর্ণ হলে দ্রুত এর অনুমোদন দেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন।
তিনি বলেন, দেশের এ পরিস্থিতিতে দ্রুততার সঙ্গে কোভিক কিটটি সরকারিভাবে অনুমোদন প্রয়োজন। কারণ বর্তমান সংকট সময়ে এটি অনেক কার্যকরী পদক্ষেপ।

Lab Scan
ভাগ