ঝিকরগাছায় ২৪ ঘন্টায় ৬ ব্যক্তির মৃত্যু

ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোরের ঝিকরগাছায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ৬ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যেমে, তারা সবাই বিষাক্ত মদপানে মারাগেছে বলে জানালেও মৃত্যুরপর হসপিটাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্রে সবাইকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারাগেছে বলে উল্লেখ করেছেন। মৃত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আবুল গাজীর ছেলে হাবিল গাজী (৬০), বর্ণি গ্রামের সুরোত আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), হাজেরালী গ্রামের মৃত গহর আলীর ছেলে আসমত আলী (৫০), পুরুন্দরপুর গ্রামের মৃত-ফকির ধোপার ছেলে হামিদুল রহমান (৫৫), রাজাপুর গ্রামের আলফাজের ছেলে নুর ইসলাম খোকা (৫৫) ও ঋষিপাড়ার মৃতঃ রশিক লালের ছেলে নারায়ন লাল (৫৫)। এছাড়া এলকোহল খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন হাজেরালী গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে সেলিম হোসেন (৩৪) ছাড়পত্র না নিয়েই পালিয়েছে। ভর্তি রয়েছে, রাজাপুর ঋষিপাড়ার নীল কুমারের ছেলে কিশোর কুমার (৩২) ও সন্যাসী দাসের ছেলে রিপন দাস (৪০)। এছাড়া এলকোহল খেয়ে গুরুতর অসুস্থ্য রাজাপুর গ্রামের মৃত ভদ্র দাসের ছেলে মধাব দাস (৪০) কে মঙ্গলবার যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে বলে জরুরী বিভাগের মেডিকেল এসিস্ট্যান্ড মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন। জানতে চাইলে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন কিশোর দাসের স্ত্রী হসপিটালের পরিছন্নতাকর্মী সীতা রানী ও রিপন দাসের ছেলে বিষ্ণ দাস বলেন, তারা সকলেই এলকোহল খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হলে তাদেরকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া নিহতরা সকলে মিন্টু সর্দার ও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা যাওয়া হাবিল গাজির নিকট থেকে এলকোহল খেয়ে মারা গেছে বলেও জানান তারা। হাবিল গাজী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা গেলেও মিন্টু সর্দার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বলে জানাগেছে। এদিকে এলকোহল খেয়ে গুরুতর অসুস্থ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরা একজন জানিয়েছেন, রবিবার সকালে পুরুন্দরপুর গ্রামের জলিল সর্দারের ছেলে মিন্টুর নিকট থেকে ওই মদ কিনে খোকা, নারায়ন ও হামিদুল একই সাথে বসে তিনিও খেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কম খেয়ে বাড়িতে চলে আসেন। বাড়িতে ফিরে কিছুক্ষনের মধ্যে তিনিসহ সকলেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকা, হামিদুল ও নারায়ন ওই দিনই রাতে মারা যায়। সোমবার গভীর রাতে খোকা ও হামিদুলের লাশদাফন ও নারায়নের লাশ সতকার করা হয়। এর একদিন পর মঙ্গলবার বিকাল থেকে সন্থ্যার মধ্যে গ্রাম্য পল্লী চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা নেয়া অবস্থায় হাবিল গাজী ও ফারুক হোসেন মারা যায়। এছাড়া আসমত আলী মারাযায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। তবে হসপিটালে মৃত ব্যক্তিদের সকললকে হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে মর্মে ছাড়পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্থ্যায় মৃত আসমত আলীর ছোট ভাই আব্দুল ওহাবের স্ত্রী তাহমিনা বেগম, প্রতিবেশি জয়নালের স্ত্রী মাজেদা বেগম ও গফুরের স্ত্রী বেবি বেগম বলেন, প্রতি রাতেই মদ্যপান করে বাড়িতে এসে হৈচৈ করতো। এদিকে স্বল্প সময়ের মধ্যে এত মানুষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার রাতে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মেজবাউর রহমান, সেকেন্ড অফিসার এসআই দেবব্রত দাসসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র আতংক বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা চিন্তার বিষয়। তবে মৃত্যুর পর হসপিটাল কর্তৃপক্ষ সকলের ছাড়পত্রে হৃদরোগ উল্লেখ করেছেন বলেও জানান তিনি।

Lab Scan
ভাগ