যশোর শহরে রাস্তাঘাট ফাঁকা দোকানপাট বন্ধ, প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে হচ্ছেন না কেউ

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ করোনাভাইরাসের কারণে যশোর শহরে মানুষের চলাচল কমে গেছে। আতঙ্কে গ্রামের মানুষ এখন শহরমুখী হচ্ছেন না। প্রশাসন মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে। ইতোমধ্যে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে। শহরে দোকানপাট সব বন্ধ। শুধুমাত্র মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা আছে। সেখানেও বেচাকেনা খুবই কম। শহরে একপ্রকার অঘোষিত ‘লকডাউন’ বিরাজ করছে। পৃথিবীব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবা বিস্তার করেছে। মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। আমাদের দেশও এ ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়নি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেছেন। আক্রান্ত দেশ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে দেশে কোভিড-১৯ রোগটি ছড়িয়েছে। এখনও বহু বিদেশ ফেরত ব্যক্তি কোয়ারেন্টাইনে না থেকে হাট-বাজারে জনসমাগম এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
গত ২৫ মার্চ থেকে সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিট অধিনায়ক ৮ প্লাটুন সেনা নিয়ে যশোর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তির অবস্থান নির্ণয় ও তাদের নিজ নিজ অবস্থানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাই হচ্ছে সেনাবাহিনীর লক্ষ্য। ইতোমধ্যে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিসে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। গণপরিবহন বন্ধ হয়েছে। রেল ও নৌ যোগাযোগ আগেই বন্ধ হয়েছে। যশোরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনী মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এ অবস্থায় যশোর শহরে অঘোষিত ‘লকডাউন’ বিরাজ করছে। রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। খোলা আছে শুধু মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার। ২৭ মার্চ শুক্রবার যশোরের বড় বাজার কাঁচাবাজারে যথারীাতি দোকানিরা পণ্য বিক্রি করতে নিয়ে বসেছেন। লকডাউনের আশঙ্কায় চাল, ডাল, তেল ও আটার মত কাঁচাবাজারও অনেকে বেশি বেশি করে নিয়ে গেছেন গত দু তিন দিন আগে। তাই মানুষের চাহিদাও কমে গেছে। অনেক দোকানে আগের দিনের অবিক্রিত সবজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। সেসব সবজির দামও যথেষ্ট কম ছিল্। তবে শুক্রবার বিভিন্ন মোকাম থেকে আসা টাটকা সবজির দাম ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি।