ভারতে চিনি উৎপাদনের প্রাক্কলন বাড়াল আইএসএমএ

লোকসমাজ ডেস্ক॥ গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে ভারতে চিনির ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুম শুরু হয়েছে। চলবে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরই মধ্যে বিপণন মৌসুমের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। মৌসুমের শুরুর দিকে এক প্রতিবেদনে ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএমএ) জানিয়েছিল, এবারের মৌসুমে ভারতে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৬০ লাখ টন চিনি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ প্রাক্কলন সংশোধন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুমে ভারতে চিনি উৎপাদন হতে পারে ২ কোটি ৬৫ লাখ টন। সেই হিসাবে আগের প্রাক্কলনের তুলনায় দেশটিতে চিনি উৎপাদন বাড়তে পারে পাঁচ লাখ টন। খবর বিজনেস লাইন ও ইকোনমিক টাইমস।
আইএসএমএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন প্রাক্কলন নতুন করে বাড়ানো হলেও এবারের মৌসুমে ভারতে চিনি উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমতে পারে। মূলত আখের ভরা মৌসুমে মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে এবার দেশটিতে চিনি উৎপাদন কমতির দিকে থাকতে পারে। ভারতে আখ ও চিনি উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক।
আখ ও চিনি উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে এবারের মৌসুমের জন্য পণ্যটির দ্বিতীয় প্রাক্কলন প্রকাশ করেছে আইএসএমএ। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ভরা মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে একদিকে আখ উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে চিনির পরিবর্তে জৈব ইথানল উৎপাদনে পণ্যটির ব্যবহার বেড়েছে। এ পরিস্থিতি এবারের মৌসুমে ভারতে চিনির সামগ্রিক উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। তবে আখ উৎপাদন যতটা কমতে পারে বলে মনে করা হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতি সেই তুলনায় কিছুটা ভালো। এ কারণে মৌসুম শুরুর পাঁচ মাস পর দ্বিতীয় প্রাক্কলনে ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুমে চিনির উৎপাদন পাঁচ লাখ টন বাড়ানো হয়েছে।
আইএসএমএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ মৌসুমে মহারাষ্ট্রের চিনিকলগুলোয় সব মিলিয়ে ৬২ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে। আগের মৌসুমে ভারতের এ রাজ্যে রেকর্ড ১ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল। ভরা মৌসুমে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বন্যা এবার রাজ্যটিতে চিনি উৎপাদন কমার পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ রেখেছে।
অন্যদিকে ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুমে কর্ণাটকে সব মিলিয়ে ৩৩ লাখ টন চিনি উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছে আইএসএমএ, যা আগের মৌসুমের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ কম। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে উত্তর প্রদেশের চিনিকলগুলোয় সব মিলিয়ে ১ কোটি ১৮ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে। এ রাজ্যে পণ্যটির উৎপাদন প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ সময় পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুসহ ভারতের চিনি উৎপাদনকারী অন্য রাজ্যগুলো সব মিলিয়ে ৫২ লাখ টন চিনি উৎপাদন করতে পারে।
উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদন হয়েছিল। এর পরিমাণ ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৯ হাজার টন। পরের বছর দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৪৩ লাখ টনে। আর চলতি বছর ভারতের চিনিকলগুলোয় সব মিলিয়ে ২ কোটি ৯৩ লাখ টন চিনি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ কম।

Lab Scan
ভাগ