রংপুর মেডিকেল শিক্ষার্থীর জন্য বোর্ড গঠন, নমুনা সংগ্রহ

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন চীন ফেরত শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় ১২ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে ওই শিক্ষার্থীর রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআর’র বিশেষজ্ঞ দল। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার চীন ফেরত শিক্ষার্থী তাসদীদ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। তাসদীদ করোনায় আক্রান্ত কি না তা নিশ্চিতে ঢাকার মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) জরুরি বার্তা পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার রাতেই বিশেষজ্ঞ দল হাসপাতালে গিয়ে তাসদীদের রক্ত, কফসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে। তাসদীদকে রাখা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ডে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া কাউকে সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এদিকে তাসদীদের সুচিকিৎসার জন্য গতকাল সকালে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
এতে মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. দেবেন্দ্র নাথ সরকারকে প্রধান করা হয়। বোর্ডে অন্যান্য চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন, মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহফুজার রহমান, ডা. মো. আশরাফুল হক, ডা. এম এ ওহাব, ডা. মো. শফিউল আলম, ডা. তাপস বোস, ডা. শরিফুল ইসলাম মন্ডল, ডা. কামরুজ্জামান সরকার, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আব্দুল মোকাদ্দেম, নিউরো-মেডিসিন বিভাগের ডা. মো. এমদাদুল হক, ডা. সুকুমার মজুমদার, ডা. নারায়ণ চন্দ্র সরকার। বোর্ডের প্রধান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. দেবেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী নীলফামারী ডোমার উপজেলার তাসদীদ শনিবার হাসপাতালে আসলে তাকে করোনা ইউনিটে রাখা হয়। যেহেতু চীন থেকে এসেছে এবং তার শ্বাসকষ্ট রয়েছে তাই তাকে আইসোলেটেড করে রাখা হয়েছে। আইইডিসিআরের মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা ওই শিক্ষার্থীর রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। চীন থেকে আগতদের ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার নিয়ম রয়েছে। তার ১২ দিন হয়েছে, আমরা আরো দু’দিন তাকে পর্যবেক্ষণে রাখবো। এছাড়া আইইডিসিআরের প্রতিবেদন দু’দিনের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছনোর কথা। সেটি না আসা পর্যন্ত আমরা সন্দেহ মুক্ত হতে পারছি না। অন্যদিেক গতকাল রাজধানী মহাখালীর কার্যালয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা.মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি চীন ফেরত বাংলাদেশি যুবকের শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ নেই। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তির সময় ওই লোকের মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ ছিল না। তার জ্বর কাশি কিছুই ছিল না। এক ধরনের শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। সে কারণে তাকে আমরা পর্যবেক্ষণে নিয়ে এবং তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি। তবে তার অবস্থা এখন ভালো। গত ২৯শে জানুয়ারি রাতে তিনি চীন থেকে ফেরা নীলফামারীর ডোমারের ওই বাসিন্দা গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ বোধ করলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে তাকে নীলফামারীর ডোমার উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠিয়ে দেন।
চীন ফেরত ওই রোগীকে নিয়ে খবর প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, সন্দেহজনক কেউ পরীক্ষাধীন আছেন এমন ব্যক্তির গোপনীয়তা বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। এটা করতে না পারলে এ ধরনের ব্যক্তি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে পারেন। কারো শরীরে এ ভাইরাস পাওয়া গেলে সেটা গণমাধ্যমকে জানানো হবে কি না-জানতে চাইলে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, তারা বিষয়টি আগে নিশ্চিত হবেন। এটা জানানোর একটা প্রক্রিয়া আছে। এটা হলে আমাদের তা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কাছে জানাতে হবে। এটা যেহেতু একটা পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি। এ কারণে কিছু পদ্ধতি মেনে আমাদের সেটা জানাতে হবে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কথা বলেই আমরা নির্ধারণ করব এটা কখন কীভাবে জানাতে হবে। আইইডিসিআর জানিয়েছে, গতকাল সকাল পর্যন্ত (২১ শে জানুয়ারি থেকে) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিদেশ থেকে আগত ১৮ হাজার ২১৩ জনকে যাত্রীকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। ৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এখনও করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশ সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার জানান, সারা দেশে মোট স্ক্রিনিং যাত্রীর সংখ্যা ৭৪ হাজার ৯১১ জন। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ২৩ জনকে স্ক্রিনিং করা হয়। তিনটি বিমান বন্দর, ২টি সমুদ্রবন্দরে এবং স্থলবন্দরগুলোতে এই স্ক্রিনিং কার্যক্রম চলছে।