আকাশে উড়লো টুইন ইঞ্জিনের বৃহত্তম যাত্রীবাহী জেট

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ৭৩৭ ম্যাক্স বিপর্যয়ের পর চমক নিয়ে এসেছে মার্কিন উড়োজাহাজ কোম্পানি বোয়িং। ২৫২ ফুট দৈর্ঘ্যের ৭৭৭ এক্স মডেলের নতুন উড়োজাহাজ গতকাল শনিবার সফলভাবে প্রথম উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। দুই জেট ইঞ্জিনের বৃহত্তম যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ এটি। খবর বিবিসি।
সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে বাজারে আনা হয়েছিল বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলটি। ব্যাপক বিক্রিও হয়েছিল এটি। কিন্তু দুটি বড় ধরনের দুর্ঘটনায় ৩৪৬ জনের প্রাণহানির পর গত বছর এ মডেলের সবকটি উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড করা হয়। বিপুল অর্ডার বাতিল হয়ে যায়।
ফলে ক্ষতি পোষানোর পাশাপাশি ভাবমূর্তি ফেরাতে মরিয়া বোয়িং ‘৭৭৭ এক্স’ মডেলটি দিয়ে চমক দেখাতে চাইছে। শনিবার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলের কাছে চার ঘণ্টার পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করে এটি। এর আগে দুইবার তারিখ নির্ধারণ করেও বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় পিছিয়ে আসে বোয়িং।
তবে যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহারের আগে আরো বেশ কয়েকটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের প্রয়োজন রয়েছে। আগামী বছর এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বহরে এ মডেলের প্রথম উড়োজাহাজটি যুক্ত হবে।
বোয়িং বলছে, ৭৭৭ এক্স মডেলটি তাদের এর আগের বলতে গেলে সবচেয়ে সফল ৭৭৭ মিনি জাম্বোর চেয়ে বড় এবং দক্ষ। এর উল্লেখযোগ্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে ভাঁজযুক্ত ডানার কিনার এবং বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জেট ইঞ্জিন।
বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ মডেলের ৩০৯টি উড়োজাহাজ বিক্রি হয়েছে। প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এটিকে ৩৬০ আসনের এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ উড়োজাহাজের সমকক্ষ মনে করা হচ্ছে।
বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজটি কয়েকটি দুর্ঘটনায় পড়ার পর এ নিয়ে একাধিক তদন্ত হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, ক্রেতাদের দ্রুত সরবরাহের তাড়া থাকার কারণে এ কোম্পানি উড়োজাহাজ নির্মাণে নিরাপত্তার দিকটিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। তবে বোয়িং এ উড়োজাহাজ আবার উড়ানোর অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছে।
৭৩৭ ম্যাক্স ছিল বোয়িংয়ের সর্বাধিক বিক্রিত মডেল। কারিগরি বিপর্যয়ে পড়ে সবগুলো উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড হয়ে যাওয়ায় মার্কিন কোম্পানিটি এরই মধ্যে ৯০০ কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

Lab Scan
ভাগ