আমদানি-রফতানিতে গতি খুঁজে পাচ্ছে না চট্টগ্রাম বন্দর

লোকসমাজ ডেস্ক॥ দেশে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়। এ কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রফতানি পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যের চিত্র প্রকাশ করে। তবে গত দুই বছরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে খুব একটা উন্নতি করতে পারেনি এ সমুদ্রবন্দর। একই আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বাণিজ্য পরিস্থিতি।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া ৩ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পণ্যে শুল্কায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগের বছর শুল্কায়ন হয়েছিল ৩ লাখ ২ হাজার কোটি টাকার আমদানি পণ্যের। আমদানি কার্যক্রমে স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও। ২০১৯ সালে ৪৩ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা।
আমদানির পাশাপাশি রফতানি খাতেও অনেকটা একই চিত্র বজায় রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনারবাহী ও খোলা পণ্যবাহী বাল্ক—এ দুভাবে পণ্য রফতানি হয়। রফতানি পণ্যের তালিকায়
রয়েছে পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, চা, হিমায়িত খাদ্য, সার প্রভৃতি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে কনটেইনারে রফতানি পণ্য হ্যান্ডলিং (ওঠানামা) হয়েছে ১৫ লাখ ৮৪৪ ইউনিট (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ হিসেবে)। ২০১৮ সালে রফতানি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছিল ১৪ লাখ ৪২ হাজার ২৯৬ ইউনিট। সেই হিসেবে রফতানি কার্যক্রমে পণ্যের ঠানামায় মাত্র ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
অন্যদিকে রফতানির ক্ষেত্রে গত বছর খোলা পণ্য (কার্গো) হ্যান্ডলিং হয়েছে ৭১ লাখ ১৯ হাজার ৭৪৪ টন। ২০১৮ সালে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৭১ লাখ ২৪ হাজার ৩৫১ টন রফতানি পণ্য।
আমদানি ও রফতানি খাতের শ্লথতার প্রমাণ মেলে জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের চিত্রে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ১ হাজার ৫১৯টি কনটেইনার ভেসেল হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০১৮ সালেও এ সংখ্যা একই ছিল। ২০১৯ সালে এ সমুদ্রবন্দরে ২ হাজার ২৮৮টি কার্গো ভেসেল হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২২৮।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সঙ্গে কথা বলেছেন প্যাসিফিক গ্রুপের পরিচালক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের ডিরেক্টর সৈয়দ এম তানভীর। তিনি বলেন, দেশের জিডিপি অগ্রগতিতে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। তবে জিডিপিতে যদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে সাম্প্রতিক সময়ে সেটা হয়নি। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের এ শ্লথতা প্রভাব ফেলেছে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় একটা জায়গাতেই থমকে আছে বন্দরের বাণিজ্য কার্যক্রম।
তিনি আরো বলেন, বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে একটি সামগ্রিক উদ্যোগ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ বর্তমান সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য রয়েছে। এ কারণে সমস্যা সমাধানে দেশের রফতানি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে।
এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের চেয়ারপারসন এসএম আবু তৈয়ব বলেন, বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানির যে নেতিবাচক চিত্র, তার বেশকিছু কারণ রয়েছে। সময়মতো বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে না পারাটা অন্যতম কারণ।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের ধীরগতি পোশাক শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পোশাকের কাঁচামাল হাতে পেতে সময় লাগছে অনেক। এ কারণে আমরা নির্ধারিত সময়ে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারছি না। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পাকিস্তান, ভিয়েতনামে অর্ডার নিয়ে যাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়ন করতে হবে। তবেই বন্দরটির বাণিজ্য কার্যক্রমে গতি ফিরবে।

Lab Scan
ভাগ