সাতক্ষীরার ১২ ডেঙ্গু রোগীর ১০ জনই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়েছেন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরায় এখন পর্যন্ত ১২ ডেঙ্গু রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনই ঢাকা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হযে সাতক্ষীরায় গেছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীরা সাতক্ষীরা সদর ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিচ্ছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালনসহ নানা জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করেছে।
সাতক্ষীরা দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়ার মমতাজ পারভীন ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করতে এসেছিল। ২৫ জুলাই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। পরে পরীক্ষায় ধরে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। শহরের রাজার বাগান এলাকার রোহান হাবীব থাকেন ঢাকার উত্তরায়। দুই সপ্তাহ আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে তিনি বর্তমানে সাতক্ষীরায় আছেন। তিনি বলেন, ‘শরীরে কোনও শক্তি পাচ্ছি না। ডেঙ্গু হওয়ার কী যন্ত্রণা সেটা বুঝতে পারছি।’ সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি ফাহিমুল হক কিসলু বলেন,‘জেলায় ১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সমন্বয় দরকার। তা না হলে এটা জেলাব্যাপী ছড়িয়ে যেতে পারে। প্রতি বছর বাজেটে মশকনিধনের বাজেট থাকে। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখি না। পৌরসভার চারটি ফগার মেশিন আছে। তার সবগুলোই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তা না হলে এর প্রাদুর্ভাব আরও বাড়বে।’
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার জয়ন্ত কুমার সরকার বলেন, বেশিরভাগ ডেঙ্গু রোগী ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ঢাকা থেকে এসেছেন। এখনও পর্যন্ত সাতক্ষীরায় অবস্থান করে ডেঙ্গু হয়েছে এমন রোগীর সন্ধান পাওয়া যাইনি। সাতক্ষীরায় যে দু’জনের আক্রান্তের কথা বলা হচ্ছে তাদের পরের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’ ঈদের আগেই সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার নামে একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু করা হবে বলে তিনি জানান। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট আসাদুজ্জামান বলেন,ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর অধিকংশ ঢাকা থেকে এসে সাতক্ষীরার হাসপাতাগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। জেলার দু’জনের ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তাদের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পুনরায় রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের বিশ্রামের বিকল্প কিছু নেই। গায়ে ব্যথা ও জ্বর হলে আতঙ্কের কিছু নেই। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। এছাড়া তিনি পানি ও পানি জাতীয় খাদ্য (ডাব, শরবত,পেঁপে) বেশি খাবার পরামর্শও দেন। এছাড়া বাড়ির আঙিনায় জমে থাকা পানি পরিষ্কারসহ সবাইকে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

ভাগ