‘৭২ ঘণ্টা পর মামলা না নিতে বলার পরামর্শ ন্যায়বিচারের অন্তরায়’

0

উদিসা ইসলাম॥ রাজধানীর বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণাকালে পর্যবেক্ষণে আদালত ৭২ ঘণ্টা পরে মামলা না নিতে যে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘সেটা ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায়’ বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) এই মামলার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সুলতানা কামাল বলেন, ‘‘এরপর থেকে ‘ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর যদি কেউ মামলা করতে যায়, তা না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’ এ ধরনের পরামর্শ ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হতে পারে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল— যারা নির্যাতনের শিকার হন, তারা যেন বিচার পান— সেই পথ যত সুগম হয়, সেই ব্যবস্থা করা। সেখানে যদি ভিকটিমের বিপরীতে যায়, এমন কোনও পরামর্শ আসে, তখন হতাশ লাগে।’’ তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের পর ৭২ ঘণ্টার মেডিক্যাল পরীক্ষা এখন একমাত্র উপায় না, ডিএনএ টেস্টের সুযোগ আছে। সাক্ষী পাওয়া না যাওয়ার কথা বলা হয়, সেটিও যাতে অন্য প্রক্রিয়ায় করা যায়— সেসব নিয়ে না ভেবে মামলা না নেওয়ার পরামর্শ কতটা যৌক্তিক ভেবে দেখার বিষয়।’
বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম কামরুন্নাহারের আদালত এ রায় দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদের খালাস দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘মামলার দুই ভিকটিম বিশ্বাসযোগ্য নয়। ভিকটিম দুজনই আগে থেকেই সেক্সুয়াল কাজে অভ্যস্ত, হাসপাতাল রিপোর্ট তাই বলে। অহেতুক তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন। এতে আদালতের ৯৪ কার্যদিবস নষ্ট হয়েছে। এরপর থেকে পুলিশকে এ বিষয় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া এখন থেকে ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর যদি কেউ মামলা করতে যায়, তা না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’ ‘উই ক্যান’ এর সমন্বয়ক জিনাত আরা হক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমাদের দেশে এই আইনটি অনেক পুরনো এবং নারীকে বিচারটি পাওয়ানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে উপযোগী না। সেক্ষেত্রে এ ধরনের আদেশ বিচার না পাওয়াকে আরও নিশ্চিত করবে। যেহেতু সাক্ষী পাওয়া যায় না, নানা দিক বিবেচনায় প্রক্রিয়াটা বিচারবান্ধব করতে হবে। এখানে কোনও অভিমান বা রাগের জায়গা নাই। যে দোষী তার বিচার হতে হবে। যে ভিকটিম সে বিচার পাবে। সেটা নিশ্চিত করতে হলে ঠাণ্ডা মাথায় বুদ্ধির সঙ্গে আইনি সিস্টেম দাঁড় করাতে হবে। বাইরের দেশগুলো সাত দিন পর্যন্ত মামলা-অভিযোগ নেয়। সেখানে ৭২ ঘণ্টা বেঁধে দেওয়ার যুক্তি ঠিক বোধগম্য না।’ এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, ‘ভিকটিম মানসিকভাবে স্থিতিশীল হতেও অনেক সময় ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে যেতে পারে। এই সুপারিশ ভিকটিমের জন্য ন্যায়বিচার পেতে সহায়ক হবে না। এমনিতে ভিকটিম ও পরিবার মামলা করতে ভয় পায়। সেখানে বাধা-নিষেধ জুড়ে দিলে কেউ এগিয়ে আসবে না।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ধর্ষণের পর ভিকটিমকে যদি ৭২ ঘণ্টা আটকে রাখে তাহলে কী হবে?’

Lab Scan