৫ বছরেও শেষ হলো না মণিহার থেকে মুড়লি মোড় পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের কাজ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদের শুরুর প্রথমদিক ২০১৯ সালে যশোর শহরের মণিহার থেকে মুড়লি মোড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কের চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ শুরু হয়। সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চললেও আজও শেষ হয়নি গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক উন্নয়নের কাজ। সড়ক বিভাগ দাবি করছে ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে দৃশ্যমান তার কোনো প্রমাণ মিলছেনা। এতে করে নিশ্চিত বলা যেতে পারে সরকারের ৫ বছরের মেয়াদেও তিন কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হচ্ছে না।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর এ সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। কিন্তু গত চার বছরেও এ কাজ শেষ হয়নি। প্রথম দফায় কাজ শেষের মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর, দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর, এরপর সর্বশেষ মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৩ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও ১২৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির কাজ ৫০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। এতে করে কবে নাগাদ মানুষের ভোগান্তি কমবে সে বিষয়েও কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে যশোরের পূর্ব বারান্দিপাড়া থেকে মণিহার প্রেক্ষাগৃহ হয়ে মুড়লি মোড় পর্যন্ত যশোর-খুলনা মহাসড়কের এ তিন কিলোমিটার উন্নয়ন কাজ অনেকটা থেমে আছে। সড়কের মণিহার মোড়ের ফলপট্টি এলাকায় এক পাশে ঢালাই করে রাখা হলেও পূর্ব পাশ জুড়ে এখনো সেখানে কোনো কাজ শুরু হয়নি। যেটুকু ঢালাই করা হয়েছে তাও দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। যে কারণে মণিহার মোড়ে দিনের অধিকাংশ সময়ই বেধে থাকে তীব্র যানজট। এ নিয়ে প্রতিনিয়তই সাধারণ মানুষ ও গাড়ী চালকদের ক্ষোভ বাড়ছে।
যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়ন ২২৭ এর সিনিয়র সহসভাপতি আবু হাসান বলেন, পূর্ব বারান্দিপাড়া থেকে মণিহার প্রেক্ষাগৃহ হয়ে মুড়লি মোড় পর্যন্ত যশোর-খুলনা মহাসড়কের এ তিন কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের দাবি আমাদের দীর্ঘ দিনের। কিন্তু গত প্রায় ৫ বছর ধরে এ সড়ক উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। অথচ সামান্য এইটুকু সড়ক উন্নয়নে এক বছর সময়ও লাগার কথা না। ঠিকাদারের ধীরগতির কারণে এমনটা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে ঠিকাদার উদ্যোগী হবেন।
মনিহার মোড়ে কথা হয় শহিদুল ইসলাম নামে এক বাসচালকের সাথে। তিনি বলেন, তিন কিলোমিটার সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই দুই থেকে আড়াই হাজার যানবাহন এ অঞ্চলের ১৮টি রুটে যাতায়াত করে থাকে। অথচ এইটুকু সড়ক নির্মাণে এক থেকে দেড় বছরের বেশি সময় লাগার কথা না। এখনো ধীরগতিতে কাজ চলছে। মাঝে মাঝে সড়কে কাজ করতে দেখা যায় আবার মাঝে মাঝে কাজ চোখেই পড়ে না। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি বাড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেড ও মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে। তবে কাজটি বর্তমান বাস্তবায়ন করছে খুলনার মাহবুব ব্রাদার্স লিমিটেড। এ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি নানা অজুহাতেই গত ৫ বছর ধরে সড়ক উন্নয়ন কাজে ঢিলেমি করেছে। যদিও মুড়লি থেকে আইটি পার্ক পর্যন্ত সড়কের ফোর লেনের কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। তবে মনিহার মোড় এলাকা এখনো আগের অবস্থায় রয়েছে। ফলে চলতি বছরে সড়কের কাজ যে শেষ হচ্ছেনা সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে আমাদেরকে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বৈশিক করোনা পরিস্থিতি ও নানা সমস্যায় সড়কের উন্নয়নে কাজে ধীরগতি হয়েছে। তারপরও আমরা প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ করতে পেরেছি। আশা করছি আগামী ২৩ জুনের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ করা হবে। তিনি বলেন, দেশের চলমান অবরোধের কারণে সড়কের উন্নয়ন কাজে কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। খুলনা থেকে মালামাল আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তারপরও ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে।

Lab Scan