২ বছরের শ্যালককে অপহরণ করে যশোরে এনে হত্যা, যুবক আটক

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তিন বছরের শ্যালককে অপহরণ করে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার অভিযোগে মীর আবু বকর ফরিদ (২০) নামে মাদকাসক্ত এক যুবককে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশুর নাম রেহান। সে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মাতুইল খুরিড়াবাড়ি ওমর বাবুর্চির ছেলে। অপরদিকে আটক মীর আবু বকর ফরিদ একই এলাকার জঙ্গলবাড়ী গ্রামের মীর সাইফুল ইসলামের ছেলে।
যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে অসুস্থ রেহানকে নিজ ছেলে পরিচয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন ফরিদ। দুপুর ১ টা ২৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। রেহানের অন্ডকোষসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষত দেখে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকাদের সন্দেহ হয়। এ সময় হাসপাতাল থেকে পুলিশে খবর দেয়া হলে ফরিদকে আটক করা হয়। ওসি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ফরিদ তার বাড়ি যাত্রাবাড়ী জানালে সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, শ্বশুরালয়ে টাকা নিয়ে কোন্দলে সোমবার শিশু শ্যালককে অপহরণ করেন আবু বকর ফরিদ। এ ঘটনায় তার শ্বশুর ওমর বাবুর্চি ওই দিনই যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। অপহরণের পর ওইদিন সন্ধ্যায় ঈগল পরিবহনের একটি বাসে করে শিশুটিকে নিয়ে যশোরের ঝিকরগাছায় বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন ফরিদ। কিন্তু যশোরে আসার পথে শিশুটির ওপর অমানবিক নির্যাতন করেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে যশোরে পৌঁছানোর পর শিশুটির মুমূর্ষু অবস্থা হয়। এ সময় যশোরের চাঁচড়া চেকপোস্টে নেমে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন ফরিদ।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুর রশিদ জানান, হেড ইনজুরি হিসেবে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে জানতে পারেন শিশুটি মারা গেছে। হাসপাতালের একজন সেবিকা জানান, সিঁড়ি থেকে পড়ে নিজের ছেলে আহত হয়েছে এই বলে শিশুটিকে ভর্তি করেন ওই যুবক। এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে ফোনে শিশু রেহানের পিতা ওমর বাবুর্চি জানান, তারা পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে যশোরে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

Lab Scan