হেরোইন ও ফেনসিডিলের মামলার রায় যশোরে এক জনের যাবজ্জীবন ও দুই জনের ৫ বছর করে কারাদণ্ড

0
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে হেরোইন ও ফেনসিডিল সংক্রান্ত পৃথক ৩ মামলায় ১ জনকে যাবজ্জীবন ও ২ জনকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সাথে তাদের অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার অতিরিক্ত দায়রা জজ-৬ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১০ এর বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস পৃথক এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার বড় ভেকুটিয়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম (৪৯), শহরের নাজির শংকরপুর চাতালের মোড় এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মো. সুমন (৩৬) ও নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মাজেদুল হক পাতুর ছেলে আলমগীর হোসেন (৪৫)।
একটি মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কোতয়ালি থানা পুলিশের তৎকালীন এএসআই এজাজ মাহমুদ সদর উপজেলার বড় ভেকুটিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ির উঠান থেকে আসামি রেজাউল ইসলামকে আটক করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার পরনের লুঙ্গির ভেতর কোমর থেকে ১২৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা করা হয়। পরে তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন থানা পুলিশের তৎকালীন এসআই সুকুমার কুন্ডু। এই মামলায় আসামি রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত দায়রা জজ-৬ শিমুল কুমার বিশ্বাস তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
অপর মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিকেলে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের তৎকালীন এসআই শরীফ হাবিবুর রহমান বেনাপোল পর্যটন মোটেলের সামনে অভিযান চালিয়ে আসামি মো. সুমনকে আটক করেন। এ সময় তার কাছে থাকা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে দেড়শ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটক মো. সুমনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫বি(২) ধারায় থানায় মামলা করেন এসআই শরীফ হাবিবুর রহমান। এই মামলায় আসামি মো. সুমনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১০ এর বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস তাকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
সর্বশেষ মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর বিকেলে শার্শা থানা পুলিশের এসআই সৈয়দ বকতিয়ার আলী রামপুর বাজারের জনৈক আব্দুল খালেকের চায়ের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে আসামি আলমগীর হোসেনকে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ৫৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শার্শা থানায় মামলা করেন এসআই সৈয়দ বকতিয়ার আলী। এই মামলায় আসামি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত দায়রা জজ-৬ শিমুল কুমার বিশ্বাস তাকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
Lab Scan