হাসপাতালে আউট সোর্সিং কর্মচারীর কমিশন বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়োগপ্রাপ্ত এক আউট সোর্সিং কর্মচারীর বিরুদ্ধে রোগীর ওষুধ কিনে দেয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল গনি (৪৭) নামে এক রোগী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হন। আব্দুল গনির বাড়ি চৌগাছা উপজেলার পেটভরা গ্রামে। জরুরী বিভাগ থেকে ভতির্ করার পর সেখানে কর্মরত টলিবয় মো. সাকের আলী (জয়নাল) তাকে ৯ নং পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে নিয়ে যান। এ সময় পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত সেবিকা ওষুধ ইনজেকশন, স্যালাইন কিনে আনার জন্য রোগীর স্ত্রীর কাছে ‘স্লিপ’ লিখে দেন। কিন্তু তিনি দোকান চেনেন না। কোন দোকানে যাবেন তাও ভেবে পাচ্ছিলেন না। এ সময় টলিবয় সাকের আলী ওই মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে যান দালালদের দোকানে। সেখানে ওষুধের খালি প্যাকেট ছাড়া কোন ওষুধ নেই। প্রসিদ্ধ দোকান এড়িয়ে সাকের আলী ওই দোকানে নিয়ে যাওয়ার পর দালালরা তাকে পেয়ে বসে। চিকিৎসকের লেখা স্লিপ মোতাবেক ওষুধ না দিয়ে দালালরা অন্য ওষুধ দেয়। একই সাথে ৪ প্রকার ওষুধের স্থলে অতিরিক্ত ওষুধ দেয় এবং ১ হাজার ৬শ’ টাকা বিল করে। যার প্রকৃত মূল্য ১ হাজার টাকা। পরে ওয়ার্ড থেকে সেবিকাগণ ওষুধ ফিরিয়ে দেন এবং অন্য ওষুধ দেয় হয়েছে বলে জানান। তখন রোগীর স্ত্রী সাকের আলীকে খুঁজে পান। তাকে নিয়ে দালালদের ফার্মেসিতে গেলে সকলে সটকে পড়ে। এরপর ৫শ’ টাকা রোগীর স্ত্রীকে ফেরত দেয়। সাকের আলী ছিলেন একজন ভ্যানচালক। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দৈনিক হাজিরায় আউট সোর্সিং কর্মচারী হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ হতে ওয়ার্ড পর্যন্ত টলিতে রোগী পৌঁছে। দেয়াই হচ্ছে তার একমাত্র কাজ। কিন্তু সাকের আলী এখন শুধু রোগীর টলি বহন করছেন না। এর সাথে তার যোগ হয়েছে ওষুধের দোকানে রোগীর লোকজন নিয়ে গিয়ে বর্ধিত মূল্যে ওষুধ কিনে দেয়া আর কমিশন নেয়া। সাকের আলী হাসপাতালে জয়নাল নামে পরিচিত। এ ব্যাপারে তার সাথে আলাপ করলে বলেন, আমাকে চেনে না কে। আমি জরুরি বিভাগে রোগীর টলি ঠেলি। আমাকে ‘টলি বয়’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শুধু সাকের আলী নয়। আউট সোর্সিং কর্মচারীদের অনেকেই দালালী কাজে জড়িত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভাগ