হার্ট ছিদ্র সাইমুম হাসানকে ইউএনও’র সহায়তা

0

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ হার্টে ছিদ্র নিয়ে কষ্টে বেঁচে থাকা ছোট্ট শিশু সাইমুম হাসানের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানা। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার নির্বাহী অফিসারের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়ে কেঁদে ফেললেন। মঙ্গলবার সকালে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে এই অর্থ প্রদান করা হয়।
চৌগাছা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বেলেমাঠ মহল্লার বাসিন্দা দিনমজুর রাশেদ আলী। পরের জমিতে দিন মজুরি করে দিনে যা রোজগার হয় সেই টাকায় চলে ৫ সদস্যের পরিবার। চরম অসহায় এই পরিবারের একমাত্র শিশু সন্তান সাইমুম হাসান যার বয়স মাত্র ১৯ মাস, তার হার্টে দু’টি ছিদ্র ধরা পড়েছে। অসহায় পিতা মাতা আর দাদা দাদি লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু আজও সুস্থ হয়নি শিশু সাইমুম। এক পর্যায়ে কবিরাজের নিকট থেকে ঝাড়ফুকই শিশুটির চিকিৎসার শেষ ভরসা হয়ে উঠে।
অসহায় পরিবারের শিশু সাইমুমকে নিয়ে গত ২২ জুন দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই খবরটি চোখে পড়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানার। সাইমুম হাসানের পরিবারকে তার কার্যালয়ে আসতে বলেন। মঙ্গলবার সকালে শিশু সাইমুম হাসানের মা রাজিয়া সুলতানা ও দাদি সাহিদা বেগম নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আসেন। নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানা শিশুটির সর্বশেষ চিকিৎসার খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি শিশুটিকে মাতৃ¯েœহে কোলে তুলে নেন। নির্বাহী অফিসারের দেয়া অর্থ ও মাতৃ স্নেহের কোলে তুলে নেয়ার ঘটনায় শিশুটির মাতাসহ কার্যালয়ে উপস্থিত সকলেই অশ্রুশিক্ত হয়ে পড়েন।
এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেল হোসেন, আবু কালাম, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক শাহানুর আলম উজ্জ্বল, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, শিশু সাইমুমের মা রাজিয়া সুলতানাসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানা বলেন, শিশু সাইমুম হাসানের অসহায় পরিবারকে কিছু অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পরিবারকে যোগাযোগ করতে বলেছি।
সাইমুম হাসানের মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অনেকেই খোঁজ খবর নিচ্ছেন, নানাভাবে আমাদের সাহস যোগাচ্ছেন। খবর প্রকাশের পর যশোরের একজন চিকিৎসক আমাদেরকে তার চেম্বারে ডাকেন। সাইমুমকে দেখার পাশাপাশি বিগত দিনের পরীক্ষা নিরিক্ষার রিপোর্ট দেখে ঈদের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে সাথে নিয়ে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলেন। প্রয়োজন হলে সেখানে অপারেশন করতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

Lab Scan