হাটের ঝামেলা এড়াতে কোরবানির পশু কিনতে খামারে ছুটছেন ক্রেতারা

0

আকরামুজ্জামান ॥ কোরবানি ঈদের বাকি আর মাত্র ৬ দিন। অথচ এখনও পর্যন্ত যশোরের কোথাও পশুর হাটে বেচাকেনা জমে ওঠেনি। তবে এরই মধ্যে গৃহস্থ পর্যায়সহ বাণিজ্যিক খামারি পর্যায়ে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। অধিকাংশ ক্রেতারাই পশুর হাটের ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে খামারের গরু কিনতে গ্রামে গ্রামে ছুঁটছেন। ফলে এবছর পশুর হাটের চেয়ে খামার ও গৃহস্থ পর্যায়েই বেশি পশু বেচাকেনা হবে বলে অনেকেই মনে করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যশোরে ছোট-বড় মিলে কুরবানির পশুর হাট রয়েছে মোট ২১ টি। এর মধ্যে জেলার বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা হাটটি বড় হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম। কুরবানির মৌসুম বাদে বছরজুড়েই প্রতি বুধবার এ হাটে পশু বেচাকেনা হয়। তবে কুরবানির মৌসুমে বুধ ও শনিবার দুদিনে পশুর হাট জমে ওঠে। শনিবার ছিলো কুরবানি উপলক্ষে প্রথম হাট। তবে এদিন হাটে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গরু উঠলেও বেচাকেনা ছিলো না বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান।
চাড়াভিটা হাটের ইজারাদার আজিজ সরদার জানান, কুরবানি উপলক্ষে এ হাটের বেচাকেনা জমতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। হাটে কিছু গরু উঠলেও ক্রেতার দেখা মেলেনি। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের যে কয়টি পশু বিক্রির বড় হাট রয়েছে তার মধ্যে চাড়াভিটার এ হাট অন্যতম হাটের একটি। এখান থেকে প্রতিবছর কুরবানি উপলক্ষে কোটি কোটি টাকার গরু বিক্রি হয়। মহাসড়কের পাশের হাট হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা এখানে ছুঁটে আসেন। তবে এবছর কেমন বেচাকেনা হবে তা আপাতত বলতে পারছি না। সামনের হাটগুলোয় বেচাকেনা বাড়বে বলে মনে করছি।
হাটে কথা হয় গরু ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমানের সাথে। তিনি বলেন, এবছর কুরবানি পশু বিক্রির বিষয়টি হাটে সীমাবদ্ধ থাকছে না। অধিকাংশ ক্রেতারা গৃহস্থ পর্যায়ের পাশাপাশি সরাসরি বাণিজ্যিক খামারে গিয়ে কিনতে আগ্রহী। এর বড় কারণ হলো হাট থেকে গরু কিনে তা বাড়ি নিয়ে যাওয়া, খাজনা দেয়া, পশুর খাবার জোগান দেওয়ার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। এজন্য হাটের চেয়ে পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে বেশি গরু বিক্রি হচ্ছে।
প্রায় একই কথা বলেন, সুরত আলী নামে আরেকজন গরু ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, যশোরের বাইরের জেলার বড় বড় ব্যবসায়ীরা গ্রামে গ্রামে টাকা নিয়ে খামার পর্যায়ে থেকে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। খামার থেকে তারা গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। এর বড় কারণ হলো হাটে যে ঝামেলা থাকে সেটি খামার বা গৃহস্থ পর্যায় থেকে গরু কিনলে তা থাকে না। কারণ হাটে এক সাথে ১০/১৫টি গরু কিনলে ওইসব ব্যবসায়ীর হাট ইজারাদারের টাকাসহ বিভিন্ন খাতে কয়েকগুন টাকা দিতে হয়। এসব কারণে ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা তাদের সুবিধার জন্য এসব পথ অনুসরণ করছেন।
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এবছর যশোর জেলায় কুরবানির জন্য যে পশু লালন-পালন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে তা মোট চাহিদার চেয়ে প্রায় ৫ হাজার। ফলে কুরবানির পশুর সংকটের কোনো শঙ্কা নেই বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করছেন।
এবিষয়ে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, এবছর যশোরে কুরবানির জন্য কোনো গরু-ছাগলের সংকট থাকবে না, বরং উদ্বৃত্ত থাকবে। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের উর্র্ধ্বগতির বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা জেলার পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ২৪টি মেডিকেল টিম গঠন করেছি। পশুর হাটে আগতদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি সুস্থ-সবল পশু বিক্রির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
জানা যায়, œ কুরবানি উপলক্ষে যশোর জেলায় গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৯১ হাজার ১৮৮টি। এর মধ্যে গরু ২৭ হাজার ৯৫৫টি, ছাগল ৬২ হাজার ৬৭৬টি ও ভেড়া ৫৫৭টি। চাহিদার বিপরীতে কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৯৫ হাজার ৭১০টি গবাদিপশু। এর মধ্যে গরু ২৯ হাজার ১৭০টি, ছাগল ৬৫ হাজার ৯৮৩টি এবং ভেড়া ৫৫৭টি। উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা চার হাজার ৫২২টি। এর মধ্যে এক হাজার ২১৫ গরু ও ছাগল তিন হাজার ৩০৭টি। আট উপজেলায় মোট ২১টি পশুহাট রয়েছে।

 

 

Lab Scan