সড়কে আর মৃত্যুর ছবি চাই না

প্রতিদিন সড়কে ঝরছে মূল্যবান প্রাণ। কোনোভাবেই দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। নববর্ষের দিনটাও বিফাদে পরিষত হয়। বাড়তি ট্রিপের আশায় নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে যানবাহন চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, লাইসেন্সবিহীন চালক আর ফিটনেসবিহীন গাড়ি মূলত এসব কারণেই প্রতিদিন সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার এক দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হওয়ার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। এর আগ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় একটি বাস খাদে পড়ে শিশু ও নারীসহ আটজন নিহত হয়। আহত হয় অন্তত ৩০ জন। এ ছাড়া গত দু’দিনে যশোর, সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, শেরপুর, বরগুনার পাথরঘাটা, মেহেরপুরের গাংনী, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
দেশে প্রতিদিন যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে, তার জন্য চালকদের বেপরোয়া মনোভাব অনেকাংশে দায়ী। গত সপ্তাহেই জয়পুরহাটে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির যাত্রীদের অভিযোগ, চালক বেপরোয়াভাবে বাস চালাচ্ছিলেন। শুধু এই চালক বেপরোয়া নয়, সড়কে গাড়ি নিয়ে ওঠার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন অনেক চালক। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মালিবাগ এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান তুলে দেওয়া হয় কর্তব্যরত এক এসআইয়ের ওপর। তিনি ওই কাভার্ড ভ্যানটি থামার সংকেত দিয়েছিলেন। কিন্তু চালক আইন মানতে চাননি। তিনি কাভার্ড ভ্যান তুলে দিন এসআইয়ের ওপর। এসব নিয়ে চালকদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা কখনো কাজ করে বলে মনে হয় না। এমনকি যানবাহনের মালিকদের মধ্যেও মানবিক বিবেচনাবোধ কতটুকু কাজ করে, তা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। আদালতের কঠোর অবস্থানেও কোন ফল হচ্ছে না।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো কাজে আসছে না। মালিকরা যতদিন উদাসীন থাকবে, চালকদের মাঝে বেপরোয়া মনোভাব যত দিন থাকবে, তত দিন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা যাবে না। দেশের বেশির ভাগ চালকের প্রয়োজনীয় শিাগত যোগ্যতা নেই, নেই নৈতিকতা বোধ। যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে চালকদের বেশির ভাগই উদাসীন। একই সঙ্গে নাগরিক হিসেবে যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া দরকার, সেই দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে বেশির ভাগ চালকের।এর সাথে ইদানিং যুক্ত হয়েছে চারিত্রিক অবক্ষয়। আইন না মেনে চলার মানসিকতা তাদের বেপরোয়া করে তুলেছে। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। কোনো রকমে ড্রাইভিং শিখে, ভুয়া লাইসেন্স সংগ্রহ করে গাড়ি চালাচ্ছে এমন চালকের সংখ্যাও তো দেশে কম নয়। সব মিলিয়ে পরিবহন সেক্টরে আইনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না।
আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ এসব বিষয় নিয়ে ভাববে ও জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দেশবাসীর মতো আমরাও সড়কে মৃত্যুর ছবি দেখতে চাই না।

ভাগ